পুজোর ভিড়ে ঘুরছেন ‘তেনারা’ও! পকেটমারি ঠেকাতে, বা অঘটন ঘটেই গেলে কী করবেন?
আপনি যখন ঠাকুর দেখতে ব্যস্ত, তখনই কিন্তু পকেটমারের নজর থাকতে পারে আপনার উপর!
দুর্গাপুজোর সময় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পকেটমারি হওয়ার আশঙ্কা থাকেই। বিশেষ করে যখন ভিড় বেশি থাকে, তখন এই ধরনের অপরাধের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পকেটমারি থেকে বাঁচার উপায় এবং পকেটমারি হয়ে গেলে সেই ব্যক্তির কী কী করণীয়, তা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হল।
ভিড়ে সাবধান হন: পুজোর আনন্দে গা ভাসানোর আগে জেনে নিন কিছু জরুরি সতর্কতা। কারণ, এক মুহূর্তের অসাবধানতায় আপনার পকেট ফাঁকা হয়ে যেতে পারে!
স্মার্ট হন, সঙ্গে নগদ কম রাখুন: পুজোর সময় যত কম নগদ টাকা বহন করা যায় ততই ভাল। অনলাইন লেনদেনের উপর ভরসা রাখুন। ফোনে ইউপিআই বা কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে বড় অঙ্কের নগদ সঙ্গে রাখার প্রয়োজন নেই।
মানিব্যাগ রাখুন সুরক্ষিত জায়গায়: মানিব্যাগ বা পার্স সব সময় এমন পকেটে রাখুন যা সহজে ধরা বা কাটা যাবে না। পিছনের পকেটে মানিব্যাগ রাখা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সামনের পকেটে বা বুকের ভেতরের পকেটে রাখুন। যদি ব্যাগ থাকে, তবে ব্যাগের চেন ভাল করে বন্ধ করে রাখুন।
সতর্ক থাকুন, দূরত্ব বজায় রাখুন: যেখানে খুব বেশি ভিড়, যেমন মেট্রো স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড বা বড় প্যান্ডেলের প্রবেশ দ্বার - এই সমস্ত জায়গাতেই পকেটমারদের আনাগোনা বেশি হয়। এই ধরনের জায়গায় সতর্ক থাকুন এবং সম্ভব হলে একটু দূরত্ব বজায় রেখে চলুন।
আরও পড়ুন:
নজর রাখুন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের উপর: মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র পকেটে বা ব্যাগে রেখে মাঝে মধ্যে হাত দিয়ে দেখে নিন ঠিক আছে কি না। বিশেষ করে যখন কেউ আপনার খুব কাছাকাছি আসবে, তখন আরও বেশি সতর্ক হন।
ব্যাগ বা পার্স কাঁধে রাখা চলবে না: ব্যাগ বা পার্স কাঁধে ঝোলাবেন না। বরং বুক বা পেটের সামনে নিয়ে রাখুন। এতে কেউ ব্যাগের চেন খুলতে চাইলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন। ব্যাগের চেন সব সময় আপনার সামনের দিকে রাখুন।
পকেটমারির শিকার হলে প্রথমেই কী করবেন? যদি দেখেন আপনার পকেট বা ব্যাগ থেকে কিছু খোয়া গিয়েছে, তবে প্রথমেই মাথা ঠান্ডা রাখুন। আশপাশে চিৎকার করবেন না বা তাড়াহুড়ো করবেন না। এতে পকেটমার আরও সতর্ক হয়ে যাবে।
দ্রুত নিকটবর্তী থানায় যোগাযোগ করুন: পকেটমারি হলে যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশন বা পুজো মণ্ডপে থাকা পুলিশ ক্যাম্পে যান। সেখানে একটি এফআইআর দায়ের করুন। খোয়া যাওয়া জিনিসপত্রের বিস্তারিত বিবরণ দিন।
আরও পড়ুন:
কার্ড ও ডিজিট্যাল পেমেন্ট ব্যবস্থাপনা নিষ্ক্রিয় করুন: যদি আপনার ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড খোয়া যায়, তবে তৎক্ষণাৎ ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে কার্ডটি ব্লক করে দিন। ইউপিআই পেমেন্ট অ্যাপের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন বা সাময়িক ভাবে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করার চেষ্টা করুন।
হারিয়ে যাওয়া ফোন খুঁজে পেতে এই ব্যবস্থা নিন: যদি মোবাইল ফোন খোয়া যায়, তবে অন্য ফোন থেকে আপনার নিজের নম্বরে কল করুন। যদি বন্ধ থাকে, তবে আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে ফোনের অবস্থান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করুন। এর জন্য পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন। মনে রাখবেন, খোয়া যাওয়া ফোন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম, তাই সতর্ক থাকাটাই সবচেয়ে ভাল উপায়। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।