গোপালনগর থানার ওসি-র পরে বনগাঁ থানার আইসি। বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের মধ্যে যে দু’টি থানা পড়ে, সে দু’টিরই অফিসারকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। আইসি নন্দনকুমার পানিগ্রাহী অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিরোধীদের একাংশ এর আগে বহু বার তাঁর বিরুদ্ধে শাসক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছে। আইসি উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার তন্ময় রায়চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বলেও অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ। ঘটনাচক্রে তন্ময়বাবুকেও এ দিন বদলির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগেই বনগাঁর এসডিপিও অনিল রায়কেও সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
২০১৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বনগাঁ থানায় কাজে যোগ দেন নন্দনবাবু। এমনিতে থানার পুলিশকর্মীদের একাংশের কাছে জনপ্রিয়ই ছিলেন নন্দনবাবু। খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা করতেও তাঁকে দেখেছেন এলাকার মানুষ। থানায় রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেছিলেন। সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে টিম গড়ে ক্রিকেট-ফুটবল প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেন। নিজে টেবল টেনিস প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে জনসংযোগে ঘাটতি ছিল না।
কিন্তু বিরোধীরা বার বারই তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব হয়েছেন। শাসক দলের হয়ে কাজ করেন নন্দনবাবু, উঠেছে এ ধরনের অভিযোগ। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে অন্তত প্রকাশ্যে তাঁকে বিশেষ মেলামেশা করতে দেখেননি বনগাঁবাসী।
ভোটের ঠিক আগে কমিশনের সিদ্ধান্তে খুশি বিরোধী শিবির। শহর কংগ্রেস সভাপতি কৃষ্ণপদ চন্দ বলেন, ‘‘আমরা আগেই বলেছিলাম, ওঁর মতো অফিসার পদে থাকলে বনগাঁয় সুস্থ স্বাভাবিক ভোট করা যাবে না।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে না লাগিয়ে যে ভাবে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, তার পিছনেও আইসি-র ভূমিকা ছিল।
ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘উনি নিরপেক্ষ ভাবে কখনওই কাজ করেননি। আমরা এই বদলির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।’’
জোট-শিবির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেও তুলনায় সংযত জবাব দিয়েছেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি প্রার্থী কেডি বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘‘অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে ভোট করতে যা প্রয়োজন, তেমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।’’
তবে আইসি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতেন বলেই মন্তব্য করেছেন বনগাঁ শহর তৃণমূলের সভাপতি শঙ্কর আঢ্য। এই প্রসঙ্গেই বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘গোটা বাংলায় পুলিশ-প্রশাসনকে বিরোধীরা এখন শাসক দলের লোক বলে ভাবছে আর আতঙ্কে ভুগছে। এ রকম চলতে থাকলে তো ওঁরা নিজেদের পরিবারের লোকজনকেও শাসক দলের লোক ভাবতে শুরু করবেন।’’
আইসিকে যতই নিরপেক্ষতার শংসাপত্র দিন তৃণমূল নেতা, নন্দনবাবুর ভূমিকা নিয়ে কিন্তু বনগাঁয় বার বারই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত পুরভোটে বেশ কয়েকটি বুথে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, রিগিং, ছাপ্পার অভিযোগ ওঠে। যা জেনেশুনেও নন্দনবাবু কোনও পদক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। ছয়ঘরিয়ার একটি বাড়ি থেকে নন্দনবাবু কিছু ভোটার কার্ড নিয়ে এসেছিলেন। যা ফেরত না পেয়ে পরিবারটি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং কার্ড ফেরত পান। আরও বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন নন্দনবাবু। ক’দিন আগে শহরে জোটের মিছিল থেকেও তাঁর বদলি চেয়ে স্লোগান তোলে বিরোধী শিবির।
তবে ভোটের মাত্র দু’দিন আগে এই সিদ্ধান্ত না নিয়ে কমিশন আরও আগে পদক্ষেপ করলে ভাল হতো, বলছেন কংগ্রেস-সিপিএমের নেতাদের কেউ কেউ।