বললেন, এখনই সেই সময়, এ বার সিদ্ধান্তটা আপনাকেই নিতে হবে।

এক নোবেল পুরস্কার জয়ীর প্রতি এই আবেদন জানালেন আর এক নোবেলজয়ী।

বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নোবেলজয়ী মায়ানমারের সু চিকে রোহিঙ্গা সমস্যা মেটাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন অর্থনীতিতে বাংলাদেশের নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুস।

বাংলাদেশের নোবেলজয়ীর বক্তব্য, সু চির জীবনে সবচেয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টা এখনই। তিনি কোন পথে যাবেন, শান্তি ও বন্ধুত্বের, নাকি ঘৃণা ও সংঘর্ষের, তা বেছে নেওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত এটাই।

আরও পড়ুন- রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা বন্ধ, কিন্তু নাগরিক হচ্ছেন ১ লক্ষ চাকমা-হাজং

আরও পড়ুন- এবিভিপি’র ক্ষমতা চূর্ণ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েও

ইউনুস তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘‘মায়ানমারের জাতীয় নেত্রী সু চি বাংলাদেশে এসে শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করতে পারেন। তিনি শরণার্থীদের এই বলে আশ্বস্ত করতে পারেন যে, মায়ানমার যেমন তাঁর দেশ, তেমনই এটা শরণার্থীদেরও দেশ। তিনি তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছেন। এমন একটি সফর ও বক্তব্য গোটা পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।’’

ইউনুসের বক্তব্য, মায়ানমার সরকার যে যুক্তিতে রোহিংঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করছে তা একেবারেই আজগুবি। বর্তমান যে রাখাইন রাজ্যটি, তা ঐতিহাসিকভাবে আরাকান সাম্রারাজ্যের মূল ভূখন্ড ছিল।

বাংলাদেশের নোবেলজয়ী তাঁর ফেসবুকে আক্ষেপ করেছেন, তিনি চট্টগ্রামের যে গ্রামে বড় হয়েছেন, সেখান থেকে সামান্য দূরত্বে বিশ্ব মাপের একটি মানবিক বিপর্যয় সংঘঠিত ও ঘনীভূত হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ অসহায়, বিধ্বস্ত পুরুষ, নারী ও শিশু যাদের কেউ কেউ মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠুরতায় গুরুতর ভাবে আহত, তাঁরা মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটে আসছেন। নাফ নদীর তীরে প্রতি দিন নারী ও শিশুর লাশ ভেসে আসছে।

ঘটনা হল, গত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী মায়ানমার সরকারের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশে এসে ভিড় করছেন। গত ২৬ অগস্টের পর সেই অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, গত দুই সপ্তাহেই প্রায় ৩ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়েছেন।

ইউনুস লিখেছেন, ‘‘মায়ানমারের নিরীহ নাগরিকদের উপর দেশটির এই নির্বিচার সামরিক আক্রমণ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে জরুরি ব্যবস্থা জারির অনুরোধ জানিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর আমি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে একটি খোলা চিঠি দিই। তার আগে ডিসেম্বরে আরও কয়েক জন নোবেলজয়ীকে সঙ্গে নিয়ে আমি রোহিঙ্গাদের উপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে একটি যৌথ আবেদন নিরাপত্তা পরিষদে জানিয়েছিলাম।’’