ছোট ছোট শ্বাস আর ধড়ফড়ানি ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সমস্যা হচ্ছিল বছর তেইশের মেয়েটির। বহু চিকিৎসা করেও সমস্যা না মেটায় সম্প্রতি কলকাতার চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ত্রিপুরার বাসিন্দা উমরাও বানো (নাম পরিবর্তিত)। শেষমেশ বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা নতুন জীবন দিলেন উমরাওকে।

তিন বছর ধরে শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত উমরাও চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানতে পারেন, তিনি কনজেনিটাল (ইনহেরিটেড) অ্যাওর্টোক্যামেরাল ফিসচুলার শিকার। কী এই অসুখ? চিকিৎসকেরা জানান, উমরাওয়ের হৃৎপিণ্ডের ডান করোনারি ধমনী ও ডান অলিন্দের মধ্যে যোগাযোগ ঘটাচ্ছে একটি ভাস্কুলার চ্যানেল, যা বিশুদ্ধ রক্তকে নিলয়ে না পাঠিয়ে ডান অলিন্দে পাঠাচ্ছে। স্বাভাবিক কাজ করতে বাধা পাচ্ছেন ওই তরুণী। চিকিৎসকদের দাবি, জন্ম থেকেই এই জটিলতা ছিল রোগীর। কিন্তু বোঝা যায়নি।

সব দিক বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নেন, এই সমস্যা সমাধানে কোনও অস্ত্রোপচার করা হবে না উমরাওয়ের। শেষে কোনও রকম কাটাছেঁড়া এবং রক্তপাত ছাড়াই এক ঘণ্টায় বেরিয়ে আসে দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান সূত্র। উমরাওয়ের হৃৎপিণ্ডের ওই ভাস্কুলার চ্যানেলটি বন্ধ করে সেখানে অ্যাম্পলেৎজার ভাস্কুলার প্লাগ (এভিপি) নামে ছাতার মতো দেখতে একটি যন্ত্র বসিয়ে দেন চিকিৎসকেরা। সেই যন্ত্রই হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। কার্ডিও থোরাসিক সার্জন কুনাল সরকার বলেন, ‘‘হৃদ্‌যন্ত্রের গঠনগত ত্রুটির কারণে এই সমস্যা হয়েছিল। এটি বিরল ঘটনা। তবে প্রথমেই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিইনি।’’

ওই হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ চিকিৎসক রবীন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া করে কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সন্তান ধারণেও কোনও সমস্যা হবে না উমরাওয়ের।’’

কতটা বিরল এই অসুখ? আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ চিকিৎসক কনককুমার মিত্র বলেন, ‘‘এটা অবশ্যই বিরল। দু’-তিন শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়।’’

 

কলকাতার আরও খবর পড়তে চোখ রাখুন আনন্দবাজারে।