ভরদুপুরে শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় এক ব্যক্তির মাথায় রিভলভার ধরে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়াল। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিলিগুড়ি থানার বিধান মার্কেট লাগোয়া রাজা রামমোহন রায় রোডের ঘটনা। ধস্তাধস্তি দেখে কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে গেলে নিজেদের ‘ক্রাইম ব্রাঞ্চের’ লোক বলে পরিচয় দেন ৪ যুবক। এরপরে একটি গাড়িতে জোর করে ওই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে চলে যায়। গাড়িতে ‘গর্ভমেন্ট অব ইন্ডিয়া’ লেখা ছিল বলে বাসিন্দারা দেখতে পান। গাড়ির নম্বরে ইউপি লেখা থাকতে তাঁরা দেখেছেন, কিন্তু নম্বরগুলো কেউ বলতে পারেননি।

এক যুবককে অপহরণ করা হয়েছে বলে চাউর হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এলাকায় খোঁজখবর, তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

সন্ধ্যা নাগাদ পুলিশ জানতে পারে, সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর অফিসারেরা মায়ানমার থেকে আনা লক্ষাধিক টাকার নেশার ট্যাবলেট-সহ একজনকে ধরেছে। শিলিগুড়ির হাকিমপাড়া, পূর্ব বিবেকানন্দপল্লি-সহ এলাকায় জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি করা হয়েছে। তবে তা রাজমোহন রাডের ঘটনাই কি না, এসএসবি-র তরফে সরকারি ভাবে রাত অবধি স্পষ্ট করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, যারা ওই যুবককে ধরে নিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের হাতে রিভলভার ছিল। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা কোনও অভিযানের খবর জানি না।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনাটি তিন রাস্তার মোড়ে ঘটে। আশেপাশের দোকান, হোটেল লজে সিসিটিভি থাকলেও সেখানে কিছু দেখা যায়নি। একটি বহুতলের বন্ধ দোকানের বারান্দায় তিন জন চার জন দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্কুটি নিয়ে দুই ব্যক্তি আসতেই তাঁরা ঝাপিয়ে পড়েন। স্কুটির আরোহী দৌড়ে অগ্রগামী ক্লাবের কোচিং মাঠের দিকে পালিয়ে যায়।  রিভলভার মাথায় ধরে আরেকজনের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি চলে। তা দেখেই রাস্তার পাশের দোকানদারদার, পথচারীরা প্রথমে হকচকিয়ে যান। পরে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তাঁরা জানান, পুরোটাই সিনেমার মতো মনে হচ্ছিল। এলাকার একটি হোটেলে কয়েকদিন ধরে আছেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের (এসএসইউ) কয়েকজ। হইহল্লা দেখে তাঁরাও হোটেলের বাইরে চলে আসেন। তাঁদের একজন মোবাইল থেকে পুলিশ কন্ট্রোলে ফোন করে ঘটনাটি জানান।