দু’হাজারের পর এ বার মিলল নতুন ৫০০ টাকার জালনোট। ঘটনাস্থল সেই মালদহের বৈষ্ণবনগর। শুক্রবার ভোররাতে বৈষ্ণবনগর থানার সীমান্তবর্তী গ্রাম দৌলতপুরে হানা দিয়ে নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার প্রচুর জালনোট উদ্ধার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ও বিএসএফ। গ্রেফতার করা হয়েছে এক পাণ্ডাকে।

এ দিন ভোর ৩টে নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৈষ্ণবনগর থানার বাখরাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম দৌলতপুরে বিএসএফের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালায় দিল্লি ও কলকাতার এনআইএ কর্তারা। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় হাবিব শেখকে। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকার জালনোট। তারমধ্যে দু’হাজারের ৪০০টি এবং পাঁচশোর ১৯৬ টি জালনোট মিলেছে। সে জালনোট পাচারের অন্যতম পান্ডা বলে দাবি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তাদের।

নোটবন্দির পর জেলাতে লাগাতার উদ্ধার হয়েছে নয়া দু’হাজারের জালনোট। তবে এ বারই জেলায় প্রথম উদ্ধার হল নয়া ৫০০ টাকার নোট। যা প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বিগ্ন জেলার ব্যবসায়ী মহল। মালদহের মার্চেন্ট চেম্বার অফ কর্মাসের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, “জালনোট বন্ধ হবে ভেবে নোটবন্দির সময় দুর্ভোগ হলেও মেনে নিয়েছিলাম। তবে এখন আমাদের দুশ্চিন্তা রয়েই গেল।”

২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্র সরকার পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করে। তারপরে মাস দুয়েক কোনও জালনোট মেলেনি। কিন্তু ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসেই উদ্ধার হয় প্রথম দু’হাজারের জালনোট। তারপর থেকে জেলা জুড়ে লাগাতার উদ্ধার হয়েছে নয়া দু’হাজারের জালনোট। এক বছরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার দু’হাজারি জালনোট উদ্ধার হয়েছে জেলায়। এ বার মিলল নয়া ৫০০ টাকার জালনোট।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবিব বাখরাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি হেরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তার একটি বিড়ি ফ্যাক্টরিও রয়েছে। তাই জালনোট পাচারের ঘটনায় হাবিব গ্রেফতার হওয়ায় হতবাক গ্রামবাসীরা। তবে এনআইএ কর্তাদের দাবি, জালনোট পাচারের অন্যতম পাণ্ডা সে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার এক কর্তা বলেন, “সম্প্রতি নতুন দু’হাজারের জালনোট সমেত শব্দলপুর এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জেরা করেই হাবিবের নাম উঠে আসে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের কারবারিদেরও যোগ রয়েছে। তার মোবাইল ফোনের কল লিষ্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” এ দিন বিকেলে উদ্ধার হওয়া জালনোট সমেত ধৃতকে বিএসএফ ও এনআইএ তুলে দেয় পুলিশের হাতে। আজ, শনিবার ধৃতকে মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হবে।