ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল এক মাস আগে। তারপর বিচার চেয়ে সালিশি সভায় গিয়েছেন। থানায় গিয়েছেন। কিন্তু বিচার মেলেনি। শেষপর্যন্ত আদিবাসী সংগঠনের হাত ধরে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হলেন এক বধূ। এসপিকে না পেয়ে তাঁর অফিসে বসেই লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বিচারের আর্জি জানালেন তিনি।

স্বামী ভিন্ রাজ্যের শ্রমিক। হিলি থানার সালাস এলাকায় ছোট বাচ্চাকে নিয়ে থাকেন ওই বধূ। ৬ জানুয়ারি রাতে তাঁর ঘরের বিদ্যুতের সংযোগ চলে গেলে মেরামত করতে গিয়েছিলেন প্রতিবেশী সুকুমার বর্মন। তখনই তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

বধূ জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির একটি মুদির দোকান রয়েছে। সেখানে মালপত্র কিনতে গেলে সুকুমার তাকে নানা সময় কুপ্রস্তাব দিয়েছে। তাই তাকে এড়িয়েই চলতেন তিনি। কিছু দিন ধরে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগে গোলযোগ চলছিল। তাই বাধ্য হয়ে অভিযুক্তকেই মেরামত করতে ডেকেছিলেন। সেই সুযোগেই ওই ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করে। এরপর ঘটনার কথা কারও কাছে প্রকাশ করলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ভুল করে হেলমেটটি ফেলে রেখে যায়।

বধূর বক্তব্য, এরপর তিনি অবিবাহিত সুকুমারের বাবা ও মাকে বিষয়টি জানান। কিন্তু তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনার চার দিন পর গ্রামে সালিশি সভা বসে। অভিযুক্ত সুকুমার দলবল নিয়ে এসে সেই সভা বানচাল করে দেয়। এরপর ১১ তারিখ হিলি থানাতে গেলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারের আশ্বাস দেয়। কিন্তু এতদিনেও কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে তিনি আদিবাসী সংগঠন সেঙ্গেল অভিযানের কাছে পরিস্থিতি জানান। তারপরেই তারা তাঁকে পুলিশ সুপারের কাছে নিয়ে যায়। হিলি থানার ওসি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘থানাতে ওই ধরণের কোনও অভিযোগই কেউ করেননি। ধর্ষণের অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার কোনও বিষয়ই নেই।’’

এ দিন অভিযুক্ত সুকুমার ওই বধূকে ধর্ষণের অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।’’ তার হেলমেটটি ওই বধূ দোকান থেকে নিয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ডেপুটি পুলিশ সুপার সৌম্যজিত বড়ুয়া বলেন, ‘‘অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ এ দিন বিকেলে হিলি থানার ওসিও তদন্ত শুরু করেছেন। আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের ব্লক সভাপতি সৌমেন টুডু বলেন, ‘‘পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন হবে।’’