একই দাবিতে জেলার দু’টি কলেজে দিনভর বিক্ষোভ দেখালো দু’টি আলাদা ছাত্র সংগঠন।

মালদহ চাঁচল কলেজে রাত পোহালেই কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু তার জন্য প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় শুক্রবার দুপুর থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেছে ছাত্র সংসদের দায়িত্বে থাকা ছাত্র পরিষদ। সামসি কলেজেও বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অনুমতি না মেলা নিয়ে কলেজে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। তবে সামসি কলেজে ঘণ্টাখানেক পরে বিকেলে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হলেও চাঁচল কলেজে অনুমতি না মেলা পর্যন্ত ঘেরাও চলবে বলে হুমকি দিয়েছে ছাত্র পরিষদ।

চাঁচল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা তো অনুমতি দিতে পারি না। প্রশাসন অনুমতি না দিলে আমরা কী করতে পারি।’’শনিবার চাঁচল কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি মেলেনি। একইভাবে পুজোর ছুটির আগে সামসি কলেজেও অনুমতি না মেলায় ওই অনুষ্ঠান এখনও হয়নি। তারপরেই এ দিন দুপুর তিনটে থেকে দুই কলেজেই অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্র পরিষদ ও টিএমসিপি।

চাঁচল কলেজের ছাত্র পরিষদের জিএস নজমুল হক বলেন, ‘‘আগাম প্রস্তুতি নিতে এর মধ্যে অনেক টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। অনুষ্ঠান না হলে কলেজ তো সেই টাকা আমাদের দেবে না।’’

সামসি কলেজে অবশ্য অনুষ্ঠানের অনুমতি না মেলার পাশাপাশি আরও অনেক দাবি রয়েছে। এর আগে অধ্যক্ষকে হেনস্থা করায় টিএমসিপির জিএস নাসিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকে আর নাসিরুদ্দিনকে কলেজে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে কলেজে ঢুকতে দেওয়ার দাবি তুলেও অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

সামসি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘‘জিএসের নামে এফআইআর থাকায় তাঁকে কলেজে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’’

কলেজে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের এক্তিয়ারে বলে জানিয়েছেন চাঁচলের মহকুমাশাসক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। এ বিষয়ে চাঁচলের আইসি সুকুমার মিশ্র বলেন, ‘‘এ বার জেলার কোনও কলেজেই বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে জেলার নির্দেশ ছাড়া আমাদের পক্ষে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।’’