ডুয়ার্সের দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে চিতাবাঘ সাফারির ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করে সেন্ট্রাল জু অথরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাল রাজ্য বন দফতর।

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২ হেক্টর এলাকাজুড়ে ওই সাফারি তৈরি হবে। খরচ ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। বন দফতরের আর্থিক বরাদ্দ ছাড়াও ওই কাজের জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর ও পর্যটন দফতরের আর্থিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে। দুই দফতরের তরফেই আশ্বাস মিলেছে বলে দাবি বনকর্তাদের। সেন্ট্রাল জু অথরিটির অনুমোদন মিললেই শুরু হবে কাজ। রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, “দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে বিশ্বমানের চিতাবাঘ সাফারির পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়েছে।’’

বন দফতর সূত্রেই জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে গত কয়েকবছর থেকেই নতুন প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ির কাছে শালুগাড়ায় বেঙ্গল সাফারি পার্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে পর্যটকদের ভিড় হচ্ছে। দক্ষিণ খয়েরবাড়িতেও একইভাবে চিতাবাঘ সাফারির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। দফতরের কর্তাদের দাবি, ‘‘২২ একর এলাকা জুড়ে চিতাবাঘ সাফারি রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প।’’ ঠিক হয়েছে, কাজ সম্পূর্ণ হলে প্রাথমিকভাবে ৬টি চিতাবাঘ ছাড়া হবে। জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশে পর্যটকেরা চোখের সামনে সেগুলো দেখার সুযোগ পাবেন। দফতরের কয়েক জন আধিকারিক জানিয়েছেন, এতে ডুয়ার্সের আকর্ষণ বাড়বে। এর মাধ্যমে জলদাপাড়ার উপর পর্যটকদের চাপ কমানো যাবে বলেও তাঁদের আশা। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট স্যানাল বলেন, “গন্তব্যের বিকল্প যত বাড়বে তত ভিড় বাড়বে পর্যটকদের। সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনৈতিক ছবিও বদলাবে।’’ তবে নতুন হওয়া জায়গাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও নজর দিতে হবে বলে জানান তিনি।

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম জমানায় দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে চিতাবাঘ রেসকিউ সেন্টার গড়ে তোলা হয়। তখন সেটির আয়তন নিয়ে প্রশ্ন তোলে সেন্ট্রাল জু অথরিটি। যার জেরে তৈরি হয় সমস্যা। তাই এ বার সেন্ট্রাল জু অথরিটির অনুমতি নিয়ে ওই কাজের শুরুতে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছেন বনকর্তারা।