নববর্ষের শুভেচ্ছা সকলকে। আজকের সকালটার হাত ধরে নতুন একটা বছর এল আবার। যাবতীয় কলুষ থেকে মুক্তি পেতে হবে এ বার আমাদের। নতুন বছরের সঙ্কল্পটা এই রকমই হোক। আজকের সকাল এক নতুন সকাল হয়ে ধরা দিক।

ভাবনার সঙ্কীর্ণতায় কলুষ রয়েছে। ধারণার অসহিষ্ণুতায় কলুষ রয়েছে। রাজনৈতিক দখলদারির মানসিকতায় কলুষ রয়েছে। নতুন বছরে তথা এই নতুন সকালে মুক্তি পেতেই হবে এই সব কিছুর হাত থেকে। নতুন এই বছরটায় আর কোনও গৌরী লঙ্কেশকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখতে চাই না। আর কোনও শ্রমিকের পরিণতি আফরাজুলের মতো হোক, এমনটা চাই না। গোমাংস গুজবে যে ভাবে প্রাণ নেওয়া হয়েছিল কিশোর জুনেইদের, আর কোনও কিশোরকে সেই পরিস্থিতির মুখে পড়তে দেখতে চাই না। দ্রুত বেগে বাইক চালিয়ে বা পছন্দ মতো গোঁফ রেখে কোনও দলিতকে তথাকথিত উচ্চবর্ণের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে, এমনটা আর দেখতে চাই না।

দেখতে চাই না বলেই কলুষের হাত থেকে মুক্তি চাই। সঙ্কীর্ণতা, অসহিষ্ণুতা, দখলদারির মানসিকতা, বিভাজনকামিতা ইত্যাদির হাত থেকে শুধু আমাদের মুক্তি পেতে হবে, এমন কিন্তু নয়। এই সব কলুষ তাদের প্রভাব বৃদ্ধি করেছে বিশ্বব্যাপী। কোনও ভূ-রাজনৈতিক সীমায় আটকে থাকেনি তারা। গোটা প়ৃথিবীই তাই কম-বেশি যুঝছে আজ এ সবের বিরুদ্ধে। এ যুদ্ধে যদি সফল হয় মানবজাতি, বদলে যাবে পৃথিবীর রংটা। মধ্য এশিয়ার ঊষর বালি আর রক্তে ভিজবে না রোজ। ভারত মহাসাগরের সর্বজনীন তথা মুক্ত জলভাগ দখল করার চেষ্টা করবে না কোনও মহাশক্তিধর রাষ্ট্র। রোহিঙ্গাদের সমূলে উচ্ছেদ করে দিতে সক্রিয় হবে না কোনও দেশের সেনাবাহিনী। ভারত-পাক সীমান্তে তথা নিয়ন্ত্রণরেখায় রোজ গোলাগুলির শব্দ শোনা যাবে না। জম্মু-কাশ্মীরে আর সন্ত্রাসকে হানা দিতে দেখা যাবে না।

আরও পড়ুন
বছরের শেষ দিনে উৎসবে ঝলমল শহর

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

নতুন বছরে তথা আজকের এই নতুন সকালে সেই লক্ষ্যেই শপথ নেওয়া যাক। সঙ্কল্পে অটল হওয়া যাক। নতুন বছর সকলের ভাল কাটুক, সমৃদ্ধির পথে আরও এগোক মানবজাতি।