সংরক্ষণের জাঁতাকল

সম্প্রতি (১৫-১২) পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন কর্মশিক্ষা এবং শারীরশিক্ষার শিক্ষক চেয়ে বিজ্ঞপ্তি (মেমো নং-১১৪১/৬৮৬৭/ সিএসএসসি/ ইএসটিটি ২০১৬) প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, শারীরশিক্ষার জন্য মোট শূন্যপদ ১০১৯ এবং কর্মশিক্ষার জন্য মোট শূন্যপদ ১২৩৭। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে সেই শূন্য পদের বড় অংশটিই সংরক্ষিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কমিশন প্রদত্ত যে শূন্য পদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তার সারসংক্ষেপ হল নিম্নরূপ।

কর্মশিক্ষার ক্ষেত্রে মোট শূন্যপদ ১২৩৭টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত শ্রেণির বাইরে রয়েছে মাত্র ৩০৬টি পদ। মোট ৯৩১টি অর্থাৎ ৭৫.২৬ % বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষিত রয়েছে। অন্য দিকে, শারীরশিক্ষার মোট শূন্যপদ ১০১৯টি। এর মধ্যে ৭১৩টি অর্থাৎ ৭০% পদ সংরক্ষিত রয়েছে।

ভারতীয় সংবিধানে আজ থেকে প্রায় সত্তর বছর আগে সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়, কিন্তু তার পর থেকে ক্রমান্বয়ে সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। শূন্যপদ তালিকার নীচে লেখা আছে— এর মধ্যে আবার ১০% পদ কর্মরত পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত। অর্থাৎ, সাধারণের জন্য বরাদ্দ ৩০৬-এর ১০% অর্থাৎ ৩০টি পদ আবার কমে গেল। অর্থাৎ পড়ে থাকল ২৭৫টি। এই পদগুলিতে শুধু যে সাধারণ শ্রেণির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তা নয়, সেগুলিও সবার জন্য। অর্থাৎ, মেধা তালিকার ভিত্তিতে। তফসিলি জাতি (এসসি)এবং জনজাতিরা (এসটি) তাদের মেধার বলে ‘সাধারণ’ বরাদ্দ অংশেও চাকরি পাবে। বিগত কয়েকটি স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে এমন শূন্যপদ দেখা গেছে।

শূন্যপদ তালিকার নীচে লেখা আছে, ‘Appointment Registers of 100 point roster are maintained by individual schools.’

এখন প্রশ্ন হল, স্কুল সার্ভিস কমিশন একটি মেমো নং-এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেখানে এই বিভাজন করাটা অনুচিত। যদি বিদ্যালয়গুলি পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ করত, তা হলে কিছু বলার থাকত না। এখানে একটি মাত্র স্মারক সংখ্যা(১১৪১)-তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শূন্যপদের নিরিখে রোস্টার মান্য করা উচিত।

বর্তমানে বহু বিত্তশালী তফসিলি জাতি এবং জনজাতির মানুষ সংরক্ষণের সুযোগ নিচ্ছেন শুধুমাত্র সরকারি ঔদাসীন্যে। অনেক কর্মরত শিক্ষক পুনরায় সংরক্ষণের সুযোগ নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে বয়সের ছাড় (অতিরিক্ত ৫ বছর) এবং আর্থিক ছাড় (সাধারণ শ্রেণির ২৫০ টাকা হলেও তফসিলি জাতি-জনজাতিদের জন্য মাত্র ৮০ টাকা) নিয়মিত ভাবে ভোগ করে চলেছেন বহু বিত্তশালী।

সংরক্ষণের এই জাঁতাকল বন্ধ করার জন্য সার্বিক ভাবে সকলের এগিয়ে আসা উচিত।

সুকুমার বিশ্বাস। পায়রাডাঙা, নদিয়া

সুখকর নয়

বেশ কয়েক বছর পূর্বে, হিন্দু সংস্কার অনুযায়ী পিণ্ডদানের উদ্দেশ্যে গয়ায় যেতে হয়েছিল। সেখানে পাণ্ডাদের ডান্ডা খেয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা খুব সুখকর নয়। প্রেতশিলা সংলগ্ন যে-পুকুরের জলে হিন্দু আচারবিধি পালন করতে হয়, সেই জল রীতিমত শৈবাল পরিকীর্ণ, দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত। উপরন্তু, যে মন্দির চত্বরে বিষ্ণুর পাদপদ্ম রক্ষিত আছে, পুণ্যার্থীদের ফুল-বেলপাতা ইত্যাদিতে সে স্থান এমন সমাচ্ছন্ন ও অস্বস্তিকর যে মনে ভক্তির পরিবর্তে ভয়েরই উদ্রেক হয়। তারকেশ্বরের অভিজ্ঞতাও তদ্রুপ। যাকে ‘দুধপুকুর’ বলা হয়, সেটি একটি কর্দমাক্ত ক্ষুদ্র জলাশয় ভিন্ন আর কিছু নয়। মন্দির-প্রাঙ্গণ পুণ্যার্থীর ভিড়ে এমন দুর্গম ও অব্যবস্থায় পরিপূর্ণ যে, দেবদর্শনের সৌভাগ্য হয়নি।

সত্যি কথা বলতে কি, মন্দিরগুলি (সব নয়) আজকাল এক শ্রেণির লোকের কাছে আড্ডার প্রিয় জায়গা হয়ে উঠেছে। তাস খেলা, মদ্যপান সবই চলছে। এমনকী ঘোর মদ্যপের অশ্রাব্য গালিগালাজও ধেয়ে আসছে। স্থানীয় মানুষজনের ভয় অথবা নিস্পৃহ মনোভাবের কারণে এ সব কদাচারের নীরব দর্শক হতে হচ্ছে সকলকে।

শীলভদ্র সান্যাল। জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ