‘অচ্ছে দিন’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই মোদী সরকারের মন্ত্রীরা এত দিন বলতেন, শহর থেকে বেরিয়ে একটু গ্রামে ঘুরে আসুন। বদলটা বুঝতে পারবেন।

নরেন্দ্র মোদী নিজেই কৌশল পালটাচ্ছেন এ বার। গ্রামকেই শহরে তুলে আনার নতুন কৌশল নিচ্ছেন তিনি! এ সপ্তাহে গ্রামের চাষিবৌরা দিল্লিতে আসছেন তো পরের সপ্তাহে চাষিরাই হাজির হচ্ছেন মোদীর সামনে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁদের থেকে শুনতে চান এবং গোটা দেশকেও শোনাতে চান, সরকারি প্রকল্পে তাঁদের কতখানি সুবিধা হয়েছে? তাঁরা আরও কী কী চান সরকারের কাছে? উদ্দেশ্য এটাই বোঝানো যে এই সরকার গ্রামে চাষির ঘরেও সুরাহা পৌঁছে দিতে চায়। এক দিকে সরকারের প্রচার। অন্য দিকে ক্ষোভ সামাল দেওয়া। এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চান মোদী।

সামনে লোকসভা ভোট। তার আগে গ্রামের মন জয়ে বাজেটে বাড়তি ফসলের দাম, গ্রামে টাকা ঢালার কথা ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। তাতে আদৌ কতটা লাভ হবে, ফসলের দাম সত্যিই ন্যায্য কি না— ইতিমধ্যেই এ সব প্রশ্ন তুলেছে কৃষক সংগঠনগুলি। প্রধানমন্ত্রী এবার নিজেই চাষিদের ও কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে তাঁদের কথা শুনতে চান। কৃষি ক্ষেত্রে কোথায় সঙ্কট, চাষিদের আয় বাড়ানোর জন্য আরও কী কী করা উচিত, তা নিয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চাষিদেরও মতামত শুনতে চান প্রধানমন্ত্রী। ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি এই বৈঠক বসবে দিল্লির পুসা-য়। মোদী ২০২২-এ কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এই বৈঠকেরও নাম তাই ‘জাতীয় সম্মেলন ২০২২’। 

মঙ্গলবারই দিল্লিতে এসেছিলেন ২৭টি রাজ্যের ১০৪ জন গ্রামের গরিব পরিবারের মহিলা। সকলেই প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনায় নিখরচায় রান্নার গ্যাসের সংযোগ পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঘুরেছেন তাঁরা। মোদী নিজে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। উজ্জ্বলা যোজনা নিয়ে মোদী সরকার ঢাক পেটালেও বিরোধীদের অভিযোগ, ওভেন নিখরচায় মিললেও সিলিন্ডার নিখরচায় মিলছে না। অনেকে তাই সিলিন্ডারই কিনছেন না। মোদী বলেছিলেন, ধোঁয়ার হাত থেকে মহিলাদের রক্ষা করতেই তিনি নিখরচায় রান্নার গ্যাসের সংযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও মহিলারা কাঠকুটোতেই রান্না করছেন।

আরও পড়ুন: প্রেমদিবসে কুকুর-গাধার বিয়ে!

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘‘এই অভিযোগ সত্যি নয়। সংযোগ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৪০ লক্ষ। তার মধ্যে ২ কোটি পরিবারে সমীক্ষা করে দেখেছি, ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই নতুন সিলিন্ডার কেনা হচ্ছে। সাধারণ পরিবারে বছরে গড়ে ৭টি সিলিন্ডার কেনা হয়। দারিদ্রসীমার নিচের এই পরিবারগুলি বছরে ৪টি সিলিন্ডার কিনছে। ছবিটা মোটেই খারাপ নয়। অভ্যাসে বদল আসতে সময় লাগে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ওঁদের কথা শুনেছেন।’’

আগামী সপ্তাহে কৃষকদের কথাও নিজে শুনতে চান মোদী। কৃষিসচিব এস কে পট্টনায়ক বলেন, ‘‘দু’দিনের সম্মেলনে প্রথম দিন বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন। দ্বিতীয় দিন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কৃষকদের কথাও শুনবেন প্রধানমন্ত্রী।’’

কৃষক সংগঠনগুলি অভিযোগ তুলেছে, সরকার চাষের খরচের দেড় গুণ ফসলের দাম দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও, তার মধ্যে জমির লিজ, ঋণের সুদের খরচই ধরা নেই। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনুসিঙ্ঘভির কটাক্ষ, ‘‘এত দিন তো সরকার বলছিল, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গরিব ঘর থেকে উঠে এসেছেন। তাই গরিবের অবস্থা নিয়ে সমীক্ষা চালানোর দরকার পড়ে না। এখন তবে গরিবদের দিল্লিতে আনিয়ে তাঁদের কথা শুনতে হচ্ছে কেন!’’