রামনাথ কোবিন্দকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী করে দলিত তাস খেলতে চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। এ বারে সেই চাল মোকাবিলায় মায়াবতী, নীতীশ কুমার ও এনডিএ শরিক শিবসেনাকে পাশে টানাই বড় চ্যালেঞ্জ সনিয়া গাঁধী-সীতারাম ইয়েচুরিদের। সূত্রের খবর, মীরা কুমারের পাশাপাশি বাবাসাহেব অম্বেডকরের নাতি প্রকাশ অম্বেডকরের নামও রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ভাবছে বিরোধী শিবির।

বিজেপি আজ বিহারের রাজ্যপাল কোবিন্দের নাম ঘোষণার পরেই নীতীশ কুমার তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ-ও বলেছেন বিরোধী জোটের সঙ্গে কথা বলেই তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন। দলিত নেত্রী মায়াবতী কোবিন্দের নামে সন্তোষ প্রকাশ করেও বলেছেন, বিরোধী জোট এর থেকেও ভাল দলিত প্রার্থী দেয় কি না, তিনি দেখতে চান। আর বিজেপির এই দলিত-কৌশলের পাশে তাঁরা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন এনডিএ-শরিক শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তাঁর কথায়, কোবিন্দকে এনডিএ-এর প্রার্থী বলা যায় না। কারণ শরিকদের সঙ্গে কথা বলে মোদী-শাহ এই নাম ঠিক করেননি। উদ্ধবের মতে, বিজেপির এই দলিত-তোষণ কৌশলে দেশের কোনও উপকার হবে না। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতও বলেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে আলোচনার সময়ে বিজেপি তো এই নাম বলেনি! তবে কেন আমরা সমর্থন করব?’’

আরও পড়ুনজেটলি-মমতা কথা নিষ্ফলাই

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতাদের নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছেন সনিয়া গাঁধী। বিরোধী জোট ধরে রাখতে তাঁর এখন দায় এক জন ওজনদার প্রার্থী দিয়ে নীতীশ ও মায়াবতীকে খুশি রাখা। আর সঙ্গে আগের দু’বারের মতো শিবসেনাকেও পেলে সেটা হবে বাড়তি পাওনা।

সেই রণনীতি নিয়েই এগোচ্ছে বিরোধীরা। এক বিরোধী নেতার দাবি, নীতীশ এনডিএ-র প্রার্থীকে সমর্থনের কথা বলেননি। রাজ্যপাল প্রার্থী হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত, সে কথাই শুধু বলতে চেয়েছেন। বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলেই যে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন, তা-ও জানিয়েছেন নীতীশ। বরং নরেন্দ্র মোদীর ফোন পেয়ে, রাজভবনে গিয়ে রামনাথকে শুভেচ্ছা জানিয়েও তিনি সন্ধ্যায় জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘যোগ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না। কিন্তু বিরোধী নেতারা যা-ই বলুন, নীতীশের দলের মুখপাত্র নীরজ কুমার যে সুরে এনডিএ প্রার্থীর গুণ গেয়েছেন, তার পরে অনেকেরই মতে কোবিন্দের পাশেই থাকবে জেডি (ইউ)।

বিজেপির দলিত-অস্ত্রে মায়াবতী অবশ্য একটু বেকায়দাতেই পড়েছেন। কিন্তু তাঁকে খুশি করতে ‘আরও ভাল’ দলিত নেতা খুঁজতে হলে মীরা কুমার মানানসই হবেন না বলে কোনও কোনও বিরোধী নেতা মনে করছেন। সে কারণে প্রকাশ অম্বেডকরের নামও বিবেচনায় থাকছে। মীরা কুমার সরাসরি কংগ্রেসের নেত্রী। কিন্তু প্রকাশের গায়ে সে ভাবে কোনও বড় দলের ছাপ নেই। তবে কংগ্রেসের বাইরে কোনও নাম বাছাই করতে আবার সনিয়া গাঁধীর সম্মতি লাগবে। সম্প্রতি বাম নেতাদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে মোদীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন প্রকাশ অম্বেডকর।

তবে বামেরা যে ‘সঙ্ঘের লোক’ কোবিন্দকে কিছুতেই সমর্থন করবে না, সীতারাম ইয়েচুরি এ দিন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কথা ছিল সরকার পক্ষ আলোচনার জন্য বিরোধীদের কাছে নামের প্রস্তাব দেবে। কিন্তু বাস্তবে নাম ঘোষণাই করে দিল বিজেপি। মমতা ও লালুপ্রসাদও কোবিন্দের নামে আপত্তি তুলেছেন। লালু ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, রামনাথ আরএসএসের স্বয়ংসেবক। সঙ্ঘের নির্দেশেই চলবেন। কোনও ভাবেই তাঁকে সমর্থন করা হবে না। বিহার মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে লালুর ছেলে তেজপ্রতাপকে দু’বার শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছিলেন রাজ্যপাল কোবিন্দ। শপথ বাক্যে থাকা একটি শব্দ তেজপ্রতাপ ভুল উচ্চারণ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেই থেকেই লালু ও তাঁর পরিবার রামনাথের ওপরে খাপ্পা।