একের পর এক রহস্যের মোড়ক খুলছে প্রদ্যুম্ন ঠাকুর হত্যা-কাণ্ডে। বুধবারই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, যৌন নিগ্রহের কোনও প্রমাণ মেলেনি সাত বছরের ওই পড়ুয়ার শরীরে। এই রিপোর্টের পর থেকেই প্রদ্যুম্ন হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল।

এ বার রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল, প্রদ্যুম্নের মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তের ছবি। সেই ফুটেজেই দেখা যাচ্ছে, শেষ মুহূর্তে শৌচাগার থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এসে বাঁচার চেষ্টা করেছিল প্রদ্যুম্ন। সম্প্রতি স্কুলের শৌচাগার বাইরের দিকের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এল গুরুগ্রাম পুলিশের হাতে।

ঠিক কী কী হয়েছিল ৮ সেপ্টেম্বরের সকালে?

প্রদ্যুম্ন স্কুলে পৌঁছনো থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত গোটা ফুটেজটাই এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রদ্যুম্নর স্মৃতিতে ভোপালে মোমবাতি মিছিল। ছবি: পিটিআই

ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, সকালে ৭টা ৪০ নাগাদ বাস নিয়ে স্কুলে পৌঁছয় আশোক কুমার। বাস থেকে পড়ুয়ারা নেমে যাওয়ার পর স্কুল কম্পাউন্ডের ভিতর বাসটি পার্ক করে সে। এর কিছু ক্ষণের পরেই স্কুলের প্রধান গেট দিয়ে ঢুকে সোজা পড়ুয়াদের শৌচাগারের দিকে যেতে দেখা যায় আশোককে।

সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে প্রদ্যুম্ন এবং প্রদ্যুম্নর বোন তার বাবার সঙ্গে স্কুলে আসে। স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকে প্রদ্যুম্নর বোন ক্লাসরুমের দিকে যায়। শৌচাগারে যায় প্রদ্যুম্ন।

আরও পড়ুন: যৌন নিগ্রহ করা হয়নি প্রদ্যুম্নকে, ময়নাতদন্তের পর জানালেন চিকিৎসক

এখনও স্কুলে চলছে পুলিশি প্রহরা। ছবি: পিটিআই

শৌচাগারের বাইরে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে, ৭টা ৫ মিনিট থেকে ৮টা ৫ মিনিটের  মধ্যে ঘটে যাওয়া গোটা ঘটনা। দেখা যায়, প্রদ্যুম্ন টয়লেটে ঢোকার কিছু ক্ষণের মধ্যেই সেখানে ঢুকেছিল বাস কন্ডাকটর অশোক কুমার। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই শৌচাগার থেকে বেরিয়ে যায় অশোক। এর পরেই রক্তাক্ত অবস্থায় হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসে প্রদ্যুম্ন। দেখা যায়, হাত দিয়ে কাঁধের ক্ষত চেপে ধরে রয়েছে সে। কিন্তু শৌচাগারের দরজা পর্যন্ত এগিয়েই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রদ্যুম্ন।

শৌচাগারের বাইরে প্রদ্যুম্নকে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে প্রথম দেখেন স্কুলের মালি। তিনিই অ্যালার্ম বাজিয়ে সকলকে ডাকেন। ফুটেজে দেখা যায়, অ্যালার্ম শুনেই আশেপাশের ক্লাস থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন বেশ কয়েক জন শিক্ষক শিক্ষিকা। কিছু ক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অভিযুক্ত অশোক কুমারও। এর পরেই প্রদ্যুম্নকে এক জন শিক্ষকের গাড়িতে তুলে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।