কোচ মাতোসের গলায় যখন দু’দিন পরেও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোল হজমের হতাশা, তখন কিন্তু তাঁকে ভরসা দিচ্ছে অমরজিৎরা। যদিও চোটে কাবু সে। তবুও অধিনায়কের মতোই একরাশ বিশ্বাস নিয়েই ঘানার বিরুদ্ধে নামার স্বপ্ন দেখাচ্ছে গোটা দলকে। এই ভারতীয় দলের সব থেকে সদর্থক দিক অবশ্যই দলের মধ্যের একাত্মতা ও বোঝাপড়া। সেটাই বেগ দিচ্ছে বিপক্ষের দলগুলিকে।

কিন্তু, ফিনিশিংয়ের অভাব আর সঙ্গে অনভিজ্ঞতাই ফল পেতে দিচ্ছে না। না হলে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলা জিকসনও বুঝে গিয়েছেন, গোল করার সঙ্গে সঙ্গে গোল হজমটা আসলে পেশাদারিত্বের অভাব থেকেই হয়েছে। এটাকেই শিক্ষা হিসেবে নিয়ে ঘানার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামছে ভারতীয় দল।

আরও পড়ুন

আনোয়ার-অমরজিতের চোটে সমস্যায় ভারত

পর্তুগালের জন্য আমি খুশি কিন্তু অবাক নই: মাতোস

 কোথাও এখনও একটা ছোট্ট আশা রয়ে গিয়েছে। তবে, সবটাই নির্ভর করবে অন্য দলের ফলের উপর। কলম্বিয়া, ইউএসএ-র বিরুদ্ধে জিতলে চলবে না আর ভারতকে জিততে হবে ঘানার বিরুদ্ধে। প্রথম শর্ত এটাই। তা হলে যদি ইউএসএ-কলম্বিয়া ম্যাচ ড্র হয় তা হলে ইউএসএ-র পয়েন্ট হবে সাত। কলম্বিয়া দাঁড়িয়ে থাকবে চারে। প্রথম ও দ্বিতীয় দল হিসেব যোগ্যতা অর্জন করে যাবে এই দুই দল। আর ভারত যদি ঘানার বিরুদ্ধে জিতে যায়, তা হলে ঘানা ও ভারত দু’জনেরই পয়েন্ট হবে তিন। হেড টু হেডে এগিয়ে থাকবে ভারত। ইউএসএ যদি জিতে যায় তা হলে তিন দলের পয়েন্ট একই থাকবে। এই অবস্থায় গোল পার্থক্য দেখা হবে। এখানেই শেষ নয় সব ঠিক মতো চললেও ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রুপ লিগের খেলা না শেষ হলে ভারতের ভাগ্য কোনও ভাবেই স্থির করা যাবে না।

অনুশীলনে ভারতীয় দল।

কিন্তু, ১০ নম্বরে থাকা কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ খেলে ও গোল করে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী দল। কোচ আগেই জানিয়েছেন, জয় ছাড়া তিনি আর কিছুই ভাবছেন না। ঘানার ফিজিক্যাল ফুটবলের বিরুদ্ধে তিনিও সাজিয়ে ফেলেছেন তাঁর অস্ত্র। অধিনায়ক অমরজিৎ কিয়াম বলেন, ‘‘প্রতিপক্ষের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমরা ওদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে চলেছি। কলম্বিয়ার থেকেও বেশি লড়াইের মুখে পড়বে ওরা। এটা আমাদের টিকে থাকার লড়াই। পরের পর্বে যেতে আমরা যা খুশি তাই করতে পারি।’’ একমাত্র গোলদাতা ভাইয়ের কথার সুর ধরেই বলে গেলেন, ‘‘ওরা খুব শক্তিশালী দল জানি। আমরাও তৈরি। ঘানার বিরুদ্ধে শারীরিক যুদ্ধ হবে কিন্তু পাল্টা দিতে আমরা তৈরি।’’

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে দলের ১২তম ফুটবলারের কথা বলেছিলেন মাতোস। এবং তাঁকে হতাশ করেনি দিল্লির দর্শক। সারা ক্ষণ সমর্থন করে গিয়েছে। সেই সমর্থকদেরই ধন্যবাদ জানিয়েছে সঞ্জীব স্ট্যালিন। তার কথায়, ‘‘আমরা সমর্থকদের জন্য খেলি, ওরাই আমাদের সব কিছু। এ রকম সমর্থনের জন্য ওদের ধন্যবাদ।’’ গোলকিপার ধীরাজ অবশ্য আরও সমর্থনের কথা বলেছেন। যে ভাবে অল-আউট খেলার কথা বলছে ভারতীয় দল, ঠিক সে ভাবেই অল-আউট সাপোর্ট চান ধীরাজ। এই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভাবে নজর কেড়ে চলেছে এই গোলকিপার। বলছিল, ‘‘ঘানার বিরুদ্ধে আমরা অনেক অনেক সমর্থন চাই। মাঠে আমরা আমাদের সেরাটা দেব। আমরা চাই সবাই একই ভাবে আমাদের জন্য চিৎকার করুক। আমরা হতাশ করব না। আসুন নীল ঝড়কে সমর্থন করুন।’’