আইপিএলে ক্রিকেটারদের ‘রিটেনশন’-এর ধারা ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি কাকে ধরে রাখতে চাইবে। আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অনুরোধ মতো পাঁচ জন করে পুরনো ক্রিকেটার ধরে রাখার নিয়ম পাশ হয়ে গিয়েছে। এই পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন পুরনো ক্রিকেটারকে সরাসরি ধরে রাখা যাবে, বাকি দু’জনকে রেখে দেওয়া যাবে নিলামে ‘রাইট টু ম্যাচ’ কার্ড ব্যবহার করে। অথবা কেউ দু’জনকে ধরে রেখে তিন জনকে ‘রাইট টু ম্যাচ’ কার্ডে কিনতে পারে।

‘রাইট টু ম্যাচ’ হচ্ছে নিলামে কোনও ক্রিকেটারকে তুলে দিলেও দর হাঁকাহাঁকির পরে ওঠা মূল্য দিয়ে সেই ক্রিকেটারের পুরনো টিম তাকে কিনে নেওয়ার অধিকার পাবে। যেমন ধরা যাক শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স ধরে রাখতে না চেয়ে নিলামে তুলে দিল তাদের গত তিন বছরের অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরকে। কারণ, গম্ভীরের আগের সেই ফর্ম নেই বলে তাঁকে মোটা টাকা দিয়ে ‘রিটেনশন’ তালিকায় না-ও রাখতে চাইতে পারে কেকেআর। নিলামে গম্ভীরের অত চড়া দাম এখন না-ও উঠতে পারে। তাই নিলামে অপেক্ষাকৃত কম দামে তাঁকে কিনে নেওয়ার সুযোগ পাবে কেকেআর। ধরা যাক, গম্ভীরের সর্বোচ্চ দাম উঠল ৫ কোটি। সেই দামে তাঁকে কিনতে চাইলে গম্ভীরকে পাবে কেকেআর-ই। শাহরুখের দল নিতে না চাইলে তবেই যারা সর্বোচ্চ দর দিয়েছে, তারা পাবে তাঁকে। 

কেকেআর সূত্রে যা খবর, এই মুহূর্তে গম্ভীরকে ‘রিটেনশন’ তালিকায় রাখার কোনও খবর নেই-ও। ‘রিটেনশন’ পদ্ধতিতে তিন জনকে রাখতে গেলে যথাক্রমে ব্যায় করতে হবে ১৫, ১১ ও ৭ কোটি টাকা। যদি দু’জনকে ধরে রাখতে চায়, তা হলে দিতে হবে যথাক্রমে ১২.৫ ও ৮.৫ কোটি টাকা। এক জনকে ধরে রাখলে দিতে হবে ১২.৫ কোটি টাকা। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামের আগে ক্রিকেটার ধরে রাখার জন্য ব্যায় করতে পারবে সর্বোচ্চ ৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ বেধে দেওয়া হিসেব মতো ন্যূনতম ৪৭ কোটি ব্যবহার করতেই হবে নিলামে। 

বরাবর নিলামে পাকা পেশাদারের ভঙ্গিতে সেরা চমক দেখানো কেকেআর দু’জনকে ধরে রাখতে চাইছে বলে খবর। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল এবং সুনীল নারাইন। দুই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান-ই সেরা ম্যাচউইনার। তাই শাহরুখের দলের তাঁদের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখানোর কারণও রয়েছে। নারাইনের অ্যাকশন নিয়ে আপত্তি উঠেছে, আইসিসি-র নিয়মে তাঁর খেলা আটকে গিয়েছে। তবু তাঁর প্রতি সমর্থন ওঠায়নি কেকেআর। বিশেষজ্ঞ দিয়ে তারা নারাইনের বোলিং অ্যাকশন ঠিক করিয়ে খেলিয়েছে।  ভারতীয় দলে বিস্ময় স্পিনার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন চায়নাম্যান কুলদীপ যাদব। তরুণ রক্তের উপর জোর দিয়ে তাঁকে ধরে রাখতে চায় কি না কেকেআর, সেটা দেখার। গম্ভীরকে তারা রাখতে চাইলে সম্ভবত নিলামে তুলে ‘রাইট টু ম্যাচ’ কার্ড ব্যবহার করেই নিতে চাইবে। ভারতের সীমিত ওভারের দলে থাকা আর এক ব্যাটসম্যান মণীশ পান্ডের ক্ষেত্রেও এই কার্ড ব্যবহার করতে পারে তারা।

এখনও নিলামের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। মনে করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ বা মার্চের প্রথম সপ্তাহে তা হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিরাট কোহালিদের টেস্ট সিরিজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে। কিন্তু এখন থেকেই আগ্রহ তুঙ্গে। বুধবার চেন্নাই সুপার কিংগসের হলুদ জার্সিতে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ফেরা নিশ্চিত খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র যেন ঝড় ওঠে ক্রিকেট মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ দিনও ‘টপ ট্রেন্ডিং’ সিএসকে এবং ধোনি। যদিও ধোনি কোনও চমকই নন, কারণ এখনও চেন্নাইয়ে তিনিই আসল ‘রাজা’। বরং নিলামে সিএসকে-র দিক থেকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে আর. অশ্বিনকে নিয়ে সিদ্ধান্ত। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, অশ্বিনকে আর রাখতে আগ্রহী নয় চেন্নাই। তারা হয়তো নিলামে তুলে দিয়ে ‘রাইট টু ম্যাচ’ কার্ডও ব্যবহার করবে না। সেক্ষেত্রে অশ্বিনকে দেখা যাবে হয়তো নতুন কোনও দলের হয়ে খেলতে। আর এক চেন্নাই সৈন্য সুরেশ রায়নাকে ফের হলুদ সাম্রাজ্যে দেখা গেলেও দেখা যেতে পারে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডার ডোয়েন ব্র্যাভো-কে রেখে দিতে পারে চেন্নাই।

আরও এক টি-টোয়েন্টি সম্রাটের হয়তো বিদায়ঘণ্টা বাজতে চলেছে এ বারের আইপিএল নিলামে। তিনি ক্রিস গেল— যাঁর ভয়ে আইপিএলে বোলাররা ঘুমোতে পারতেন না। গত বার কোহালিদের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর খুবই খারাপ ফল করেছে। গেলের ব্যাট প্রায় ঘুমিয়েই ছিল। এক সময়ে যিনি ছিলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগের সুপারম্যান, তাঁকে এখন কোনও লিগেই খুব একটা কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে না কোনও দল। গেল-কে যে আরসিবি ধরে রাখবে না, তা প্রায় নিশ্চিত। কোহালিকে অধিনায়ক রেখে এবং এ বি ডিভিলিয়ার্স-কে নিয়ে তারা নতুন করে দল গড়তে চাইছে। সেই দলে গেলের জায়গা আছে বলে মনে হচ্ছে না। নিলামে তুলে দিলে ৩৮ বছরের গেল-কে কেনার আগ্রহ কি কেউ দেখাবে? শেষ দু’টি আইপিএলে তাঁর ব্যাটিং গড় ২২, এটা অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই চিন্তায় রাখবে।