দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারতীয় পেসারদের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে। যা দেখে প্রভাবিত প্রাক্তন বাঁ হাতি পেস কিংবদন্তি ওয়াসিম আক্রম-ও। এ বার ইংল্যান্ডেও ভারতীয় পেস দাপট দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক। তবে শামি, বুমরাদের উন্নতির জন্য বেশ কিছু পরামর্শও রয়েছে আক্রমের কাছে।

কেকেআরের বোলিং কোচ থাকাকালীন তিনি মহম্মদ শামিকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই তাঁর উন্নতির ব্যাপারে বেশ ওয়াকিবহাল আক্রম। তিনি বলেছেন, ‘‘শামি খুবই ভাল বোলার। কিন্তু মাঝেমধ্যে ওর রান-আপে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওর রান-আপটা আরও দ্রুতগামী করা উচিত। আরও ক্ষিপ্রতার সঙ্গে দৌড়নো উচিত শামির।’’আক্রম আরও বলেছেন, ‘‘রান-আপের সময় ছন্দ পতন হয় শামির। তাই অনেক সময় ডেলিভারির আগে ছোট পায়ে দৌড়তে দেখা যায় ওকে। তাতে পেস তো কমে যায়ই, পাশাপাশি অ্যাকশনেও সমস্যা দেখা দেয়।’’

টেস্টে ৪১৪ উইকেটের মালিকের মতে, রান-আপে ছন্দপতন ঘটলে পেসারদের ক্ষেত্রে চোটের প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনাও বেশি। তাই শামিকেও হাঁটুর চোট বেশ কয়েক বার সমস্যায় ফেলেছে।  শামির জন্য আক্রমের পরামর্শ, ‘‘শরীরের উপরের অংশ বেশি ভারী হয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে পায়ের জোর বাড়ানো খুবই জরুরি। তা হলে আরও দশ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারবে ও।’’

সাম্প্রতিক কালে যশপ্রীত বুমরার প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার মাইকেল হোল্ডিং-কে। তবে সুইং না করে বুমরার বল পিচে পড়ার পরে দিক বদল করে। তাই হয়তো ইংল্যান্ডে বুমরার সাফল্যের সম্ভাবনা দেখছেন না হোল্ডিং। আক্রম এ বিষয়ে একমত নন। তিনি মনে করেন যে, অভিজ্ঞতার সঙ্গে আরও ভাল বোলার হয়ে উঠবে বুমরা। আক্রম বলেছেন, ‘‘বছরের এক মাস যদি বুমরা কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে পারে, তা হলে ও আরও উন্নত বোলার হয়ে উঠবে।’’

তবে ‘সুইংয়ের সুলতান’-এর মতে, ইনসুইংয়ের পাশাপাশি সমান অ্যাকশনে বল বাইরে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি শিখতে হবে বুমরাকে। তিনি বলেছেন, ‘‘কব্জির ব্যবহার শিখতে পারলেই বল বাইরের দিকে নিয়ে যেতে পারবে বুমরা। সেটাই হবে ওর উইকেট শিকারের বল।’’

আক্রমের মতে, ভুবনেশ্বর কুমারই এখন ভারতের শ্রেষ্ঠ পেসার। তিনি দু’দিকেই বল সুইং করানোর ক্ষমতা রাখেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ডে ডিউক বলে খেলা হবে যা কোকাবুরা বলের থেকে অনেক বেশি সাহায্য করবে বোলারদের। আক্রমের বক্তব্য, ‘‘ভুবনেশ্বরকে দেখে আমি সত্যিই আপ্লুত। দু’দিকে সুইং করানোর পাশাপাশি বলের গতিও বাড়িয়েছে ও। ইংল্যান্ডে ডিউক বলে খেলা হবে। তাই বোলারদের কাছে এটাই বাড়তি সুবিধে হয়ে দাঁড়াবে।’’