গুজরাত ভোটের পরে রাহুল গাঁধীকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে কংগ্রেস। কিন্তু জোড়া উপনির্বাচনে তাঁর দল এখনও গুছিয়ে উঠতেই পারেনি!

নোয়াপাড়ায় কংগ্রেস প্রার্থী করেছে গারুলিয়া পুরসভার পরিচিত কাউন্সিলর গৌতম বসুকে। উলুবেড়িয়ায় তাদের প্রার্থী অপরিচিত তবে তরুণ মুখ মুদস্সর হোসেন ওয়ারসি। দুই প্রার্থীই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের সমর্থনে এখনও জোর কদমে প্রচার শুরু করেনি কংগ্রেস। ভোটের আগে দলের নেতা ও বিধায়কদের নিয়ে প্রথামাফিক যে প্রস্তুতি বৈঠক হয়, সে সবও এখনও হয়নি। তার উপরে লোকসভা ও বিধানসভার উপনির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও এআইসিসি-র তরফে তহবিলের কানাকড়ি মিলবে বলে ইঙ্গিত নেই! বামেদের সমর্থনে সবংয়ের মতো নোয়াপাড়াও গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিল কংগ্রেস। সেই অর্থে জেতা কেন্দ্র আগলাতে দলের ঢিলেঢালা মনোভাব দেখে হতাশ কংগ্রেসেরই একাংশ।

দলের অন্দরের খবর, বাংলার কংগ্রেসে এখন মোটামুটি ভাবে দুই শিবির। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কথা জানিয়ে এআইসিসি বিজ্ঞপ্তি জারি করায় একাংশ উল্লসিত। প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে বাজি পুড়িয়ে উৎসবও হয়েছে! আর অন্য একাংশ সভাপতি পদে বদল না দেখে বিষণ্ণ। এই করতে গিয়ে উপনির্বাচনের প্রস্তুতিতে নজর দেওয়া হয়নি এখনও। দলের এক নেতার আক্ষেপ, ‘‘মুখে আমরা বিজেপি ও তৃণমূলকে রোখার কথা বলছি। উপনির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল বাড়তি সব রকম সুবিধা পাবে। কিন্তু বিজেপি এক একটা উপনির্বাচনের জন্যও যা মনোযোগ দিচ্ছে, হয়ে কংগ্রেস কি তা দিচ্ছে?’’

কার হাত কবে ধরা হবে, সে সব নিয়ে না ভেবে রাজ্যে দলকে একা লড় তে বলেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল। কিন্তু এআইসিসি-র সাহায্য উপনির্বাচনে অনুপস্থিত। প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী বলছেন, ‘‘এখানে আমাদের কেউ সাহায্য করবে না। ভিক্ষে করেই যা লড়াই করার, করতে হবে!’’ অধীরবাবুর যুক্তি, সবংয়ের মতো এই ভোট থেকেও তাঁরা দলের হাল দেখে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দল ধরে রাখার লক্ষ্যেই তেমন কর্মীদের প্রার্থী করা হয়েছে, যাঁদের উপরে ভবিষ্যতে কংগ্রেস ভরসা করতে পারবে বলে আশা করা যায়। কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব প্রচার শুরু করে উঠতে না পারলেও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের সম্পাদক গৌতম দেব তাঁদের প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের পাশে প্রায় গোটা জেলা কমিটিকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।