শিয়ালদহ পর্যন্ত নয়, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর প্রথম দফায় ট্রেন চলবে সেক্টর ৫ থেকে ফুলবাগান পর্যন্ত।

শিয়ালদহের ভূগর্ভস্থ স্টেশনে ট্রেন ঘোরানোর জন্য ‘ওয়াই সাইডিং’ তৈরি করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট কর্তৃপক্ষকে। কেন শিয়ালদহে ‘ওয়াই সাইডিং’ তৈরি করা গেল না, তার একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তাঁরা।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর এক কর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ তৈরির ‘টানেল বোরিং মেশিন’ এসপ্ল্যানেড থেকে শিয়ালদহে না পৌঁছলে সেখানে ‘ওয়াই সাইডিং’ তৈরির জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না। জমি-জটের জেরে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার ফলেই প্রকল্পে এতটা দেরি হচ্ছে। আর সেই দেরির জন্যই শিয়ালদহে এত দিনেও ট্রেন চালানোর পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো তৈরি করা যায়নি।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর আর একটি সূত্রের খবর, প্রথমে আলাদা করে শিয়ালদহে ট্রেন ঘোরানোর কথা ভাবা হয়নি। প্রকল্পের নকশা তৈরির সময়ে সেক্টর ৫ থেকে হাওড়া পর্যন্ত টানা ট্রেন চালানোর কথা ভাবা হয়েছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওই পরিকল্পনা দু’ভাগে ভেঙে দেওয়াতেই এই অসুবিধা তৈরি হয়েছে। তাই এখন আর শিয়ালদহের ভূগর্ভে ‘ওয়াই সাইডিং’ তৈরির জায়গা মিলছে না। এমনিতেই শিয়ালদহে যাত্রী-সংখ্যা অনেক বেশি হবে ধরে নিয়ে সেই মাপের স্টেশন তৈরি হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে সুড়ঙ্গের মাপও বাঁধা। ফলে সেখানে আর নতুন করে জায়গা দেওয়াটা বিরাট সমস্যা।

কিন্তু এত দিন ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করার পরে শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন চলবে না শুনে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন ও বর্তমান রেলকর্তারাও। প্রাক্তন রেলকর্তা সুভাষরঞ্জন ঠাকুর বলছেন, ‘‘ফুলবাগান পর্যন্ত ট্রেন চালানো হলে যাত্রীদের লাভ হবে না।’’ রেলকর্তাদের বক্তব্য, ‘‘পরিকল্পনার সময়েই এই বিষয়গুলি মাথায় রাখা উচিত ছিল। কেন তা করা হয়নি, সেটাই প্রশ্ন।’’

এমনিতেই এত দিন ধরে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্প বিভিন্ন বাধায় জেরবার। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০১৩ সালের অগস্টে। নানা সমস্যায় আটকে পড়া এই প্রকল্পের সময়সীমা মোট পাঁচ বার পাল্টানোর পরে ঠিক হয়েছিল, ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রথম পর্যায়ে ট্রেন চালানো হবে সেক্টর ৫ থেকে শিয়ালদহ (৯.৩৬ কিলোমিটার) পর্যন্ত। কিন্তু এ বার সেটাও হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন কর্তারা। শুধু তা-ই নয়, প্রথম পর্যায়ে ট্রেন চালাতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে স্টেডিয়াম পর্যন্ত চালানো হবে ট্রেন। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্তারা।

২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শিলান্যাস করা হলেও এই প্রকল্পের নানা বিষয় নিয়ে প্রথম থেকেই জটিলতা চলছে। জমি অধিগ্রহণের সমস্যাই ছিল প্রধান। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তা মিটলেও  এখন নতুন কিছু সমস্যা সামনে আসায় জটিলতা আর পিছু ছাড়ছে না ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের। দ্বিতীয় পর্যায়ে শিয়ালদহ থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত কাজেও ইতিমধ্যে নানা সমস্যায় রুট বদলানো হয়েছে। সময়সীমা মেনে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫০০ কোটি টাকা। আবার শিয়ালদহ থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত রুট বদলানোর জন্য ৩০ শতাংশ বাড়তি খরচ হবে।