ই-মেলে অভিযোগের পরে এ বার পুলিশের কাছে সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন এক তরুণী। ঋতব্রতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণস্বরূপ বেশ কিছু ছবি অভিযোগপত্রের সঙ্গে পুলিশের কাছে দাখিল করেছেন তিনি। ওই তরুণীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঋতব্রতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে চলেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।’’

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাংসদ তাঁর সঙ্গে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন বলে বালুরঘাটের বাসিন্দা, সফ্‌টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ওই তরুণী সোমবারই অভিযোগ তুলেছিলেন। মাকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বালুরঘাট থানায় গিয়ে ঋতব্রতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইংরেজিতে টাইপ করা এক পাতার ওই অভিযোগে তরুণী লিখেছেন, গত বছরের মে মাসে ট্যুইটারের মাধ্যমে ঋতব্রতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। পরে তা থেকে ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁকে ভালবাসেন বলে ঋতব্রত বিয়ের আশ্বাসও দেন। তাঁর দাবি, এর পর থেকে সাংসদের দিল্লির আবাসনে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কিত একাধিক ব্যক্তিগত ছবিও তিনি প্রমাণ হিসাবে দাখিল করছেন বলে এ দিন তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন:কাজ কোথায়? ক্ষুব্ধ মমতা বদলালেন জেলা সভাপতি

ঋতব্রত অবশ্য ইতিমধ্যেই ওই তরুণীর বিরুদ্ধে জোর করে টাকা আদায় এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে গড়ফা থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। সাংসদের অভিযোগ, অসুস্থতা-সহ নানা কারণ দেখিয়ে তরুণী তাঁর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ নিয়েছিলেন। জালিয়াতি ধরে ফেলে তিনি আরও টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে মানহানি করা হচ্ছে বলে ঋতব্রতের অভিযোগ। তাঁর আরও দাবি, এই সময়ে এমন অভিযোগ সামনে আনার নেপথ্যে রাজনৈতিক কলকাঠি রয়েছে। সাংসদের ইঙ্গিত তাঁর পুরনো দলের কারও কারও দিকেই।

অভিযোগকারিণীর দাবি, তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকাকালীন গত বছর ডিসেম্বর নাগাদ ঋতব্রত সেখানে যান। সে সময়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তিনি ঋতব্রতের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিতে চাইলে তাঁকে নানা ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হয় বলে তরুণীর দাবি। তাতেই ঋতব্রতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য হন বলে তরুণীর দাবি। এখন ঋতব্রত তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন এবং অন্য এক বান্ধবীকে দিয়ে তাঁকে হুমকিও দিচ্ছেন বলে তরুণী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তাঁর আরও দাবি, সম্পর্কের কথা গোপন রাখতে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তাঁকে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে শারীরিক সম্পর্কের খয়রাতি হিসাবে আড়াই লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করে ওই তরুণী সুবিচার চেয়েছেন।