দুর্গাপুজোয় অভিজাত রেস্তরাঁয় খাওয়ার পাশাপাশি রাস্তার পাশের দোকান থেকে রোল, মোমো, ফুচকা না খেলে যেন ঠিক জমে না। বিশেষ করে ঠাকুর দেখার ফাঁকে ফাঁকে ফুচকা ব্রেক যেন চাই-ই চাই। ঝাল ঝাল আলুর পুর ভরা টক জল দেওয়া ছোট্ট লুচির মতো। মুখে দিলেই মনে হয় যেন অমৃত! কিন্তু জানেন কি কলকাতার কোন ১০টি জায়গায় সেরা স্বাদের ফুচকা পাওয়া যায়?
পুজোর সময়ে ঠাকুর দেখতে দেখতে ঢাকুরিয়ায় গিয়ে পড়েছেন? কিংবা পুজোর কেনাকাটা করতে হাজির দক্ষিণাপণে? তা হলে দক্ষিণাপণের ঠিক সামনে বসা রাজেন্দ্রর ফুচকা খেতেই হবে! এখানে নানা ধরনের ফুচকা পাবেন। টক জলের ফুচকা তো আছেই, সঙ্গে দই ফুচকা, আলুর দম ফুচকা, মিঠা ফুচকা– সবই রয়েছে।
আলিপুরের উডল্যান্ড রোডের প্রবেশের ফুচকাও দারুণ জনপ্রিয়। এখানে মোট ১৭ রকমের ফুচকা পাওয়া যায়। স্বাদ বদলে সেজ়্যুয়ান চিকেন, রাইসের বদলে সেজ়্যুয়ান ফুচকা খেয়ে দেখবেন নাকি? ডায়েটকে তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে চকোলেট ফুচকা খেতে চাইলেও এই দোকানে এক বার ঢুঁ মারতে হবে।
টক জল, মিঠা জলের ফুচকা তো খেয়েছেনই, তালিকায় এখন আলুর দমের ফুচকাও রয়েছে। তাই বলে কাঁচকলার ফুচকা খেয়েছেন কখনও? না খেয়ে থাকলে চক্রবেড়িয়ার উপেন্দ্র ফুচকা থেকে খেতেই হবে এই ইউনিক ফুচকা। এখানে পুর হিসেবে কাঁচকলা ব্যবহার করা হয়।
লেক কালীবাড়ির কাছে বসা দুর্গা পণ্ডিতের ফুচকাও থাকবে সেরার তালিকায়। তাঁর দোকানের আলুর দম ফুচকার আলাদা জনপ্রিয়তা আছে।
লেক কালীবাড়ি থেকে একটু এগোলেই বিবেকানন্দ পার্ক। সেখানকার তুমুল জনপ্রিয় ‘দিলীপদা’র ফুচকার স্বাদও অনন্য। তাঁর দোকানে সাবেক, আমিষ, নিরামিষ– হরেক রকম ফুচকার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চাট, চুরমুরও বেশ জনপ্রিয়।
হিংয়ের স্বাদে ফুচকা চেখে দেখতে চাইলে চলে যেতে হবে রাসেল পার্কে। এখানেই দোকান নিয়ে বসেন নানকু রাম। আলুর পুরে থাকে হিংয়ের স্বাদ, আর টক জলে পুদিনার। ফলে চেনা ফুচকার স্বাদ বদলাতে চাইলে এই দোকানে পৌঁছতেই পারেন।
অনেক সময়েই ফুচকার দোকানে গ্রাহকদের বলতে শোনা যায়, 'কী ছোট সাইজের ফুচকা দিচ্ছ? একটু বড় দেখে দাও না'! এই দোকানে এলে কিন্তু একটা গোটা ফুচকা এক বারে খাওয়া প্রায় অসম্ভব! নিউ আলিপুর পেট্রোল পাম্পের কাছে বসেন বিজয় প্রকাশ। তাঁর দোকানের ফুচকা স্বাদের পাশাপাশি সাইজেও দারুণ!
বরদান মার্কেটের কৃষ্ণকান্ত শর্মার ফুচকাও দারুণ জনপ্রিয়। এখানে কোনও কেনা মশলা নয়, বরং ঘরে বানানো মশলা দিয়েই মাখা হয় আলুর পুর, ফলে স্বাদ হয় অনন্য।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বেড়াতে গিয়েছেন? তা হলে রাম গুপ্তার ফুচকাও চেখে দেখুন। বাড়িতে বানানো তেঁতুলের ক্কাথ ব্যবহারের জন্য এই দোকানের ফুচকা দারুণ জনপ্রিয়।
দেশপ্রিয় পার্কে ঠাকুর দেখতে গিয়েছেন বা প্রিয়ায় সিনেমা? তা হলে প্রিয়া লাগোয়া দেশপ্রিয় পার্কে সামনে যে ফুচকার স্টল রয়েছে, সেখানকার ফুচকা খেতে পারেন। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)