পুজোর সময় বাড়িতে অতিথি আসছে? হাতে একে বারেই সময় নেই, এ দিকে বিরিয়ানি বানানোর ইচ্ছে, তায় আবার মাটন বিরিয়ানি! কোনও ব্যাপার নয়, পরিকল্পনা বাতিল করার বদলে বরং এই উপায়ে বানান এই লোভনীয় পদ। স্বাদ তো দুর্দান্ত হবেই, একসঙ্গে লাগবে কম সময়ও।
চলুন সহজে এবং চটজলদি উপায়ে মাটন বিরিয়ানি বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে আগে জেনে নেওয়া যাক।
মাটন বিরিয়ানি বানানোর উপকরণ: আদা বাটা, রসুন বাটা, লঙ্কা বাটা, নুন, তেল, হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, গোলমরিচ গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, গরম মশলা গুঁড়ো, বেরেস্তা, দই, শাহজিরে, ভিনেগার, চাল, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা, আতর, ঘি, কেশর জল, আলু, মাটন, লবঙ্গ, এলাচ, দারচিনি, তেজপাতা।
উপকরণ জেনে নিয়েছেন, এ বার চলে আসা যাক রন্ধন প্রণালীতে। পছন্দের বিরিয়ানির স্বাদ বাড়াতে কিন্তু 'ম্যারিনেশন' মাস্ট! আর এটার জন্য সবার আগে মাটন ভাল করে ধুয়ে তাতে এক এক করে দিয়ে দিন আদা বাটা, রসুন বাটা, লঙ্কা বাটা, স্বাদ মতো নুন, হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, গোলমরিচ গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, গরম মশলা গুঁড়ো, বেরেস্তা, পেঁয়াজ ভাজার তেল। এবার সবটা ভাল করে মিশিয়ে নিন।
এ বার এতে যোগ করুন টক দই। মাটনের সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে অন্তত আধ ঘণ্টা রাখুন। তত ক্ষণে ঘরের অন্য যা সমস্ত কাজ আছে ঝটপট সেরে ফেলুন।
ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে আধ ঘণ্টা হয়ে গিয়েছে? এ বার আবার চলে আসুন রান্নাঘরে। প্রেসার কুকারে মাটন আর আলু দিয়ে কষান। মাংস কষা হলে তাতে জল দিয়ে অন্তত ৩টি সিটি দিন। এতে মাংস ৭০ শতাংশ সেদ্ধ হবে।
এ বার প্রেসার কুকারের ভাপ বেরিয়ে গেলে মাটন অন্য পাত্রে নামিয়ে রাখুন। এ বার পালা ভাতের।
একটা হাঁড়িতে জল বসিয়ে দিন। তাতে যোগ করুন ৪টি লবঙ্গ, ১টি দারচিনি, ৬টা এলাচ, গোলমরিচ এক চামচ, ২টো তেজপাতা। সঙ্গে দিয়ে দিন পরিমাণ মতো নুন, তেল, শাহজিরে, ভিনেগার, ধনেপাতা কুচি। এ মা, চাল বাদ দিলেন নাকি? না না, এটাও এখনই এই জলে যোগ করে দিন। চাল ৮০ শতাংশ সেদ্ধ হওয়া অবধি অপেক্ষা করুন।
চাল যত ক্ষণ সেদ্ধ হচ্ছে তত ক্ষণে একটি কাজ সেরে ফেলুন। কষিয়ে রাখা মাংসে দিয়ে দিন ধনে পাতা এবং গরম মশলা।
চাল সেদ্ধ হয়ে গেছে? আরে, ৮০ শতাংশ রান্না তো হয়েই গেছে দেখেছেন! এ বার একটা পাত্রে ভাত এবং মাংস লেয়ার করে দিয়ে দিন। উপর থেকে ছড়িয়ে দিন কেশর জল এবং আতর জলের মিশ্রণ। সঙ্গে দিয়ে দিন ঘি, ধনেপাতা কুচি, পুদিনা পাতা কুচি। এ বার ভাল করে ঢাকা অন্তত ২৫ মিনিট থেকে আধ ঘণ্টা দমে রাখুন। ব্যস তা হলেই তৈরি সাধের সুস্বাদু বিরিয়ানি!
গরম গরম পরিবেশন করুন অতিথিদের। সঙ্গে পাতে রাখতে পারেন রায়তা, চিকেন চাপ আর স্যালাড। কী, পুজোর দুপুরে ভূরিভোজ জমে ক্ষীর হল? দেখলেন ক্ষীর বললাম আর ফিরনির কথা মনে পড়ে গেল। এই রেসিপিও চাই নাকি? (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)