কালী পুজো দোরগোড়ায়, চার দিকে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু জানেন কি তামিলনাড়ুর সালেম জেলার মল্লমুপট্টি গ্রামে এক অদ্ভুত দেবতার পুজো হয়?
এ যেন একে বারে উলট-পুরাণ! এত দিন মন্দির হয়েছে রাম-কৃষ্ণ-শিব-কালীর, কিন্তু খোদ ভারতেই রয়েছে ভিনগ্রহীদের মন্দির!
মন্দিরে ঢুকলেই চোখ আটকে যাবে বিগ্রহের দিকে। কুচকুচে কালো রঙ, দেহটা ছোট হলেও মাথা পেল্লায় আকারের।
বিশাল দুটি সাদা চোখ, মানুষের মতো নাক-মুখ আর হাত-পা—সব মিলিয়ে বিগ্রহটা একে বারেই অচেনা। হিন্দু ধর্মের পরিচিত কোনও দেবতার সঙ্গেই এই মূর্তির মিল নেই। ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এ আবার কোন দেব? এ মন্দিরই বা কার?
এই ভূগর্ভস্থ মন্দিরটি তৈরি করেছেন স্থানীয় পুরোহিত লোগানাথন, যিনি সিদ্ধর ভাকিয়া নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর দাবি আরও চমকপ্রদ।
তিনি বলছেন, স্বয়ং ভগবান শিব যে দেবতাদের সৃষ্টি করেছেন, ভিনগ্রহীরাই ছিল তার মধ্যে প্রথম।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকে যে কোনও বিপর্যয় বা প্রাকৃতির দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা এক মাত্র সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী এই ভিনগ্রহীদেরই আছে।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় জোমান ‘এলিয়েন ঈশ্বর’-এর দর্শনে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সিনেমায় যেমন শিংওয়ালা ভিনগ্রহী দেখানো হয়, বাস্তবে তারা তেমন নয়। তাদের চেহারা মানুষের মতোই স্বাভাবিক, আর তাদের মধ্যেও নারী-পুরুষের ভেদ আছে। তাঁর দাবি, এই দেবতারা পৃথিবীর কোনও ক্ষতি করবেন না, বরং ভাল করার জন্যই মানুষের খোঁজ করেন।
২০২১ সাল থেকে গুরু সিদ্ধ ভাগ্যের সমাধির কাছে, গ্রামের প্রায় এক একর জমির তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে এই মন্দির।
কেউ বলছেন, ভিনগ্রহীর ক্ষমতা নাকি অলৌকিক, কেউ আবার হাসতে হাসতেই ছবি তুলছেন ‘স্পেস গড’-এর সঙ্গে।
মল্লামুপট্টির এই মন্দির যেন এখন কৌতূহল আর বিশ্বাসের এক অদ্ভুত মিলনক্ষেত্র। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।