হুগলির হরিপালের মা চণ্ডালীতলা। মা কালীর আরাধনার এ এক এমন স্থান, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাড়হিম করে দেওয়া এক লোককাহিনি!
এই দেবী আসলে হলেন 'চণ্ডালকন্যা মা বিশালাক্ষী'। তাঁর এই মন্দিরটি রয়েছে হরিপাল স্টেশন থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৃষ্ণপুরে।
কথিত আছে, বহু বছর আগে মা নাকি ক্ষুব্ধ হয়ে এক নব বধূকে ভক্ষণ করেছিলেন! তা নিয়ে দু'টি কাহিনি শোনা যায়।
প্রথমটি হল - নিষেধ অগ্রাহ্য করে সন্ধিপুজো চলাকালীন মায়ের মূর্তির সামনে আশীর্বাদ নিতে হাজির হয়েছিলেন ওই নব বধূ ও তাঁর স্বামী।
দাবি করা হয়, তাতেই মা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নব বধূকে আস্ত গিলে খান। পরের দিন মায়ের মুখে সেই বধূর পরনের বেনারসী শাড়ির টুকরো দেখতে পান গ্রামবাসী।
দ্বিতীয় কাহিনিটি হল - স্থানীয় এক চণ্ডাল দলপতি তাঁর পুত্রের বিয়ে উপলক্ষ্যে মাকে প্রণাম করতে আসেন। কিন্তু, সঙ্গে করে প্রণামী আনতে ভুলে যান।
বলা হয়, এতে নাকি মা ক্ষুব্ধ হন এবং নব দম্পতিকে (বর ও বধূ - দু'জনকেই) ভক্ষণ করেন! আর তার পরই সেই চণ্ডাল দলপতি স্বপ্নে মায়ের আদেশ পান।
সেই আদেশ অনুসারে, চণ্ডাল দলপতি মা বিশালাক্ষীর প্রচার শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত মায়ের কৃপায় ছেলে ও বউমাকে ফিরে পান।
আরও কথিত আছে, তন্ত্রসাধক জ্ঞানানন্দ তীর্থ মহারাজ নাকি এই মন্দিরে এসে মা বিশালাক্ষীর সাধনা করতেন।
প্রসঙ্গত, একচূড়া বিশিষ্ট আটচালার এই প্রাচীন মন্দিরের বিগ্রহটি চতুর্ভূজা ও ত্রিনয়নী। তাঁর মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তি একই সঙ্গে ভয় ধরাবে, আবার প্রসন্নও করবে। মায়ের গাত্রবর্ণ হলুদ। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)