দিদি দক্ষিণী অভিনেতার স্ত্রী। দাদা অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত। শিশু অভিনেতা হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন তরুণী। পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কারও। কিন্তু সাত বছরের বিরতি নিয়ে ফিরে এলেও ‘কামব্যাক’ করতে পারলেন না শামলী।
দু’বছর বয়স থেকে অভিনয়! ইন্ডাস্ট্রিতে সে কারণে ‘বেবি শামলী’ হিসাবেই অধিক পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৭ সালের জুলাইয়ে কেরলে জন্ম শামলীর। বাবা-মা এবং দাদা-দিদির সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি।
শামলীর বাবা অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি তিনি। ছেলেমেয়েদের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন শামলীর বাবা।
শৈশব থেকেই দক্ষিণী ফিল্মজগতের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন শামলী। অন্য দিকে, তাঁর দাদা এবং দিদিও অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণী অভিনেতা অজিত কুমারকে বিয়ে করেন শামলীর দিদি।
মাত্র দু’বছর বয়সে তামিল ভাষার একটি ছবির মাধ্যমে অভিনয়ের প্রথম সুযোগ পান শামলী। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা মম্মূট্টি, চিরঞ্জীবী, মোহনলালের সঙ্গে শিশু অভিনেতা হিসাবে অভিনয় করেন তিনি।
১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মণি রত্নমের ‘অঞ্জলি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান শামলী। এই ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। তখন তাঁর বয়স মাত্র ৪ বছর। তামিল ভাষার ছবি ছা়ড়়াও মালয়ালম, তেলুগু এবং কন্নড় ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শামলী।
নব্বইয়ের দশকে একাধিক দক্ষিণী ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন শামলী। শিশু অভিনেতা হিসাবে তিনি যখন খ্যাতির চূড়ায়, তখন দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শামলী।
২০০৯ সালে ‘ওয়!’ ছবিতে প্রথম মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় শামলীকে। কিন্তু সেই ছবি বক্সঅফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে চলে যান তিনি।
ভিজ়ুয়াল কমিউনিকেশন নিয়ে পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জন করেন শামলী। সিঙ্গাপুর থেকে ফিল্ম স্টাডিজ় নিয়ে ডিপ্লোমা করে ফিরে আসেন তিনি।
স্কুলে পড়াকালীন আঁকা এবং নাচ নিয়ে আগ্রহ জন্মায় শামলীর। ভরতনাট্যমের পাশাপাশি সালসা, জ্যাজ়, হিপ হপের প্রশিক্ষণ নেন। তা ছাড়া মন দিয়ে আঁকাও শিখেছেন তিনি।
ভারতে ফিরে এসে আবার অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন শামলী। শিশু অভিনেতা হিসাবে তিনি এককালে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, নায়িকা হিসাবেও তেমন পরিচিতি পাওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর আশাভঙ্গ হয়।
২০১৬ সালে মালয়ালম ভাষার একটি ছবির মাধ্যমে ‘কামব্যাক’ করার চেষ্টা করেন শামলী। কিন্তু তাঁর অভিনয় নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। হাতেগোনা তিন-চারটি ছবিতে অভিনয় করেন শামলী। তার পর অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নে দাঁড়ি টেনে দেন।
সিঙ্গাপুর এবং ইটালি থেকে বিভিন্ন ধারার আঁকা শিখেছিলেন শামলী। অভিনয় থেকে সরে গিয়ে আঁকাআঁকি নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
বড় হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করবেন বলে ভেবেছিলেন শামলী। কিন্তু সেই শখ পূরণ হল না। স্মৃতির পাতায় রয়ে গেল জনপ্রিয় শিশু অভিনেতার সাফল্য। বর্তমানে বিকল্প পেশা খুঁজে নিয়েছেন শামলী।
সমাজমাধ্যমে নিজস্ব অনুরাগীমহল তৈরি করে ফেলেছেন শামলী। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ৩ লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে। সেখানে অধিকাংশ সময় নিজের আঁকা ছবি পোস্ট করেন শামলী। চিত্রশিল্পী হিসাবে দিন কাটাচ্ছেন মণি রত্নমের শিশু অভিনেতা।