Bonedi Barir Puja

ভুল করে বানানো প্রতিমার আরাধনা! অশোকনগরের সাহা বাড়ির শতবর্ষের পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে কোন ইতিহাস?

খেলতে খেলতে তৈরি করা শিশুর ভুলেই জন্ম নিয়েছিল এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা। শতবর্ষ ধরে সেই ধারা মেনে আজও সেই প্রতিমাতেই চলছে সাহা পরিবারের দুর্গাপুজো।

Advertisement

আনন্দ উৎসব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:১৫
Share:

সংগৃহীত চিত্র।

দেবী দুর্গার বাঁ দিকে কার্তিক, ডান দিকে গণেশ—এই চেনা ছবিই চোখে ভাসে বাঙালির মনে। কিন্তু অশোকনগরের সাহা পরিবারের কালো বাড়িতে সেই দৃশ্যটা উল্টে যায়। এখানে মায়ের বাঁ দিকে গণেশ-সরস্বতী, আর ডান দিকে কার্তিক-লক্ষ্মী। ভুলে গড়া প্রতিমার রীতি আজও টিকে আছে একশো বছর ধরে।

Advertisement

গল্পের শুরু অধুনা বাংলাদেশের পাবনা জেলার নাটাবেড়িয়া গ্রামে। সালটা ১৯২৬। খেলার ছলে ছোট্ট সত্যেন্দ্রনাথ সাহা মাটির প্রতিমা গড়েছিলেন। প্রতিমা বানাতে গিয়ে ভুল করেই মায়ের পাশে উল্টোপাল্টা বসিয়েছিলেন সন্তানদের। অব্রাহ্মণ হলেও সেই ছোটবেলাতেই দুর্গার প্রতি ভক্তি ছিল প্রবল। পরে তিন দাদার উদ্যোগে নাটাবেড়িয়ার বাড়ির নাটমন্দিরে সেই ভুল ছাঁচেই শুরু হয় পারিবারিক দুর্গাপুজো।

এই শতবর্ষে সাহা পরিবারের সেই ধারা এখনও একই রকম সজীব। বাংলাদেশের পাবনা থেকে অশোকনগরের কালো বাড়িতে এসেও সেই আবেগ আর ঐতিহ্যে এক বিন্দুও বদল আসেনি।

Advertisement

এই বাড়ির পুজোয় মায়ের ভোগেও রয়েছে ভিন্নতা। প্রতি দিন ঘিয়ে ভাজা লুচি আর পায়েস দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। আর দশমীর দিন? সে দিন দেবী পান নানা ধরনের পদ—নাড়ু, মুড়কি, মুড়ির সঙ্গে মানকচু, বিভিন্ন সবজি, ডাল আর গন্ধরাজ লেবু। শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই পুজো যেন বুঝিয়ে দেয়, ভুলও কখনও কখনও এক সুন্দর ঐতিহ্যের জন্ম দিতে পারে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ভালবাসার সাথে বয়ে চলে।

এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement