উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি মানেই এক নাম, এক টান— বড়মা। সেই জাগ্রত কালীর পুজো এ বার ১০২ বছরে পা দিতে চলেছে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন প্রথা মেনে মায়ের কাঠামো পুজো সম্পন্ন হয়েছে, আর এতেই যেন বাতি জ্বলে উঠেছে শহর জুড়ে।
২০ অক্টোবর রাতে বড়মার মূল পুজো, কিন্তু সেই উৎসবের মেজাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে ১৩ অক্টোবর থেকেই। মন্দির কর্তৃপক্ষ ভক্তদের জন্য খুলে দিচ্ছেন পুজোর কাউন্টার, কারণ পুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য আগেই আবেদন জানিয়েছেন, ভিড় এড়াতে নৈহাটিবাসীরা যেন পুজোর রাতে ভিড় না করে তার আগের রাতে এসে পুজো দিয়ে যান।
ভক্তদের সুবিধার জন্য কালীপুজোর সাত দিন আগে থেকেই পুজো গ্রহণ করা হবে, এমনকী অনলাইনে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে। শুধু নাম-গোত্র পাঠিয়ে দিলেই দেবীর আরাধনা সম্পন্ন হবে।
কালীপুজোর পরের দিন, অর্থাৎ ২১ অক্টোবর বড়মাকে পুজো দিতে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মাটির প্রতিমার পাশাপাশি তিনি মন্দিরে নবপ্রতিষ্ঠিত কষ্টি পাথরের মূর্তিতেও পুজো দেবেন বলে জানানো হয়েছে মন্দির সূত্রে।
এই ভিআইপি সফর ও লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা এখন তুঙ্গে। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা নিজে নৈহাটির অরবিন্দ রোড এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
ভিড় কী ভাবে সামাল দেওয়া হবে, কোন রাস্তা দিয়ে সাংসদ প্রবেশ করবেন— সব নিয়েই মন্দির কমিটির অফিসে তিনি এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন।
পুলিশের তরফে ভিআইপি-দের নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলা হলেও মূল লক্ষ্য থাকবে পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, নজরদারির জন্য পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
২২ ফুট উচ্চতার ঘন কালো কৃষ্ণবর্ণের ‘বড়মা’ কালী প্রতিমা প্রতি বছর সোনা ও রুপোর গয়নায় সেজে ওঠেন।
অরবিন্দ রোডে বড়মা ছাড়াও আরও সাতটি বড় কালীপুজো হয়, কিন্তু নৈহাটির অলিখিত নিয়ম— বড়মার বিসর্জন না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও কালীপুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন হয় না।
এই ঐতিহ্য ও বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়েই নৈহাটির বড় কালী পুজো সমিতি প্রস্তুতিতে এখন মগ্ন। ভক্তদের নির্বিঘ্নে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা তৈরি হচ্ছেন।
দণ্ডি কেটে ভক্তদের মানত করার পথে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই দিকেও বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)