সংগৃহীত চিত্র।
হুগলির চন্দননগরে নয়, বরং তার লাগোয়া চুঁচুড়ার এক গলিতে এ বার নয়া চমক। দেবী জগদ্ধাত্রীর মূর্তিতে সাধারণত লাগে গঙ্গামাটি, খড়-কাঠামো। কিন্তু সেই ধারায় জল ঢেলে একদম অন্য পথে হাঁটলেন ভাগীরথী লেনের এক কিশোর। স্কুলের পড়া শেষে রাত জেগে নিজের হাতে মাটি নয়, কাগজ দিয়েই তৈরি করে ফেলেছেন দশ ফুট উঁচু সুবিশাল জগদ্ধাত্রী প্রতিমা!
চুঁচুড়া পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌম্যজিৎ মণ্ডল— বয়সে কিশোর হলেও তার শিল্পভাবনা যেন বহু দিনের পাকা হাতের মতো। ছোটবেলা থেকেই আঁকা এবং পুজোর প্রতি তার আকর্ষণ ছিল প্রখর। সেই আকর্ষণই এখন পরিণত হয়েছে সৃজনে। গত তিন বছর ধরে এই তরুণ শিল্পী নিজের বাড়িতে কাগজের প্রতিমা তৈরি করে আসছেন, আর নিজের হাতেই করছেন দেবীর আরাধনা। এ যেন শিল্পের সঙ্গে ঈশ্বর-চেতনার এক নিবিড় মেলবন্ধন।
কাগজ দিয়ে ঘর সাজানোর নানা জিনিস তৈরি করা ছিল তার অভ্যাস। এ বার সেই অভ্যাসই এক মহৎ রূপ নিল। থার্মোকল, কার্ডবোর্ড, আর্ট পেপার, লেস, আর হ্যাঁ, প্রায় পাঁচ-ছ'টি গামছা— এই সব সাধারণ জিনিসই জাদুকরের স্পর্শে হয়ে উঠল অসাধারণ! দেবীকে সাজানো হয়েছে একটি শাড়ি এবং বেনারসি ওড়না দিয়ে। কিন্তু চমক রয়েছে প্রতিমার পিছনের চালচিত্রে। সেখানে ফুটে উঠেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পটচিত্র এবং কিংবদন্তি শিল্পী যামিনী রায়ের শিল্পকলার ছোঁয়া। সৌম্যজিতের এ বারের থিম তাই ‘বাংলার শিল্পকলায় মা জগদ্ধাত্রী’। এ যেন দেবী মূর্তির আড়ালে বাংলার শিল্প-ঐতিহ্যের প্রতি এক সশ্রদ্ধ প্রণাম।
আঁকার প্রতি বরাবরের ভালবাসা আর ছোটবেলা থেকে ঈশ্বর চেতনা থেকেই এই ‘গুরুদায়িত্ব’ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে এই তরুণ। সন্ধ্যায় পড়াশোনা শেষ করে রাত জেগে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন সৌম্যজিৎ। পরিবারের তরফেও এই কাজে কোনওদিন বাধা আসেনি, বরং ছিল নীরব সমর্থন। এর আগেও সে নিজের হাতে কাগজ দিয়ে তৈরি করেছে দুর্গা, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মনোগ্রাহী মূর্তি। শিল্পের এমন সহজ, অথচ গভীর রূপ দেখলে আপ্লুত হতেই হয়।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।