অম্বল হোক বা কোনও মারণ ব্যাধি– বলা হয়, দেবীর কৃপায় দূর হয় সবটাই।
তিনি যে সাক্ষাৎ ‘ধন্বন্তরি’! কথিত, ৪০০ বছরের পুরনো এই দেবীর স্বপ্নাদেশে পাওয়া ওষুধেই সুস্থ হয়ে ওঠেন ভক্তরা। সেই থেকেই দেবীর এমন নামকরণ।
এমনকী কথিত, এক বার এক মৃত ব্যক্তিও জীবিত হয়ে উঠেছিলেন দেবীর ওষুধ খেয়ে।
দেবীর এই রোগ সারানোর ওষুধ নিতেই নাকি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে জয়নগরের মজিলা গ্রামে আসেন ভক্তরা। সপ্তাহভরই মন্দির চত্বরে থিকথিক করে ভিড়। তা চরম আকার ধারণ করে অমাবস্যা ও কালীপুজোয়।
বৈশাখে টানা ১৫ দিন অনুষ্ঠিত হয় বেশের মেলা। বলা হয়, এই দিনগুলিতে নিজের বেশ বদলে হাজির হন দেবী।
স্থানীয় বাসিন্দারা দেবীকে ডাকেন ‘মোয়া কালী’ নামেও।
এর নেপথ্যেও রয়েছে ইতিহাস। বলা হয়, জয়নগরের বিখ্যাত মোয়া তৈরির ক্ষেত্রেও নাকি রয়েছে দেবীর হাত।
কথিত, জয়নগরের যামিনীবাবুকে এক বার স্বপ্নাদেশ দেন দেবী। নির্দেশ দেন, তাঁর ক্ষেতের নতুন কনকচূড় ধানের খই এবং নতুন গুড় দিয়ে ভোগ নিবেদন করতে হবে তাঁকে।
দেবীর কথামতোই যামিনীবাবু এই দু’য়ের মিশ্রণে তৈরি করেন একটি মণ্ড। সেটিই নিবেদন করেন দেবীর ভোগে।
সেই থেকেই সৃষ্টি হল আজকের জয়নগরের বিখ্যাত মিষ্টি মোয়া। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।