সে বহু কাল আগের কথা। শান্তিপুরের মুখোপাধ্যায় পরিবারের ছেলে গোপীনাথ মুখোপাধ্যায় নারায়ণ শিলার পুজোয় নিমগ্ন।
হঠাৎই কোথা থেকে যেন উদয় হয় এক ছোট্ট মেয়ে। প্রসাদ খাওয়ার আবদার করে বসে।
গোপীনাথ বলে পুজো শেষ হলে প্রসাদ পাওয়া যাবে। কিন্তু মেয়েটিও নাছোড়বান্দা। অমনি অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন গোপীনাথ। বিরক্ত হয়ে তাড়িয়ে দেন সেই মেয়েটিকে।
পরে অবশ্য পুজো শেষে প্রসাদ দেওয়ার জন্য মেয়েটির খোঁজ করলেও আর দেখা পাননি তার। শোনা যায়, সেই মেয়েটিই নাকি দেখা দেয় গোপীনাথের স্বপ্নে।
স্বপ্নাদেশে যেন মেয়েটি নির্দেশ দিচ্ছে পঞ্চমুণ্ডির আসনে দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন তার পুজো করতে। সেই শুরু…
ঘুম ভাঙতেই পর দিন সকালে এই স্বপ্নের কথা তাঁর মাকে জানান গোপীনাথ। মা ধীরে ধীরে নির্মাণ করেন দেবীর মূর্তি। বাড়ির কাছেই বেল গাছের নীচে পঞ্চমুণ্ডির আসনে মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়ে তন্ত্রমতে শুরু হল দেবী চাঁদুনীর পুজো।
আজও রীতি মেনে হয় আসছে এই মুখোপাধ্যায় পরিবারের পুজো।
পারিবারিক রীতি অনুযায়ী বংশের বড় বউ দেবীর কাঠামোতে প্রথম মাটি দিয়ে শুরু করেন পুজোর।
বিজয়া দশমীতে শহরবাসীর মনে যেখানে বিষাদের সুর। সেখান থেকেই হয় চাঁদুনী দেবীর আগমনের সূচনা। শুরু হয়ে যায় মূর্তি গড়ার কাজ।
ডাকের সাজে সাজিয়ে তোলা হয় দেবীকে। কালীপুজোর আগের দিন জবাকুসুম তেল দিয়ে নাকি দেবীর কেশসজ্জা করে থাকেন বাড়ির ছেলেরা।
পরানো হয় মোমের দুটি মালা। গাত্রে থাকে সোনার রতনচূর, হাতপদ্ম, কোমরবন্ধনী, বাজুবন্ধ, পুষ্পহার, সীতাহার এবং দেবীর বুকে থাকে সোনার প্রজাপতি।
ক্ষীরের মিষ্টি দিয়ে মিষ্টি মুখ করে দেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদুনী থেকে পুজোর মন্দিরে। পথে গরমে যাতে তিনি কষ্ট না পান, তার জন্য থাকে রুপোর হাত পাখা, রুপোর ছাতা এবং ঠান্ডা জল।
দেবীর ভোগে থাকে নিরামিষ আহার। আট রকমের ভাজা, পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, চাটনি, পায়েস, মিষ্টি নিবেদন করা হয় দেবীকে। কলার বড়া আর চালতার টক নাকি দেবীর বিশেষ প্রিয়! (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।