22nd Convocation

কলকাতার শীর্ষস্থানীয় বিজ়নেস স্কুলে ২৫ বছরের সাফল্যের মাঝেই অনুষ্ঠিত হল ২২তম সমাবর্তন

কলকাতার তাজ বেঙ্গলের ক্রিস্টাল হলে অনুষ্ঠিত হল ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর (জিবিএস) ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান।

এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১১:২৮
Share:

‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান

কলকাতার তাজ বেঙ্গলের ক্রিস্টাল হলে অনুষ্ঠিত হল ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর (জিবিএস) ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান ম্যানেজমেন্ট শিক্ষায় জিবিএস-এর ২৫ বছরের সাফল্যকেও উদ্‌যাপন করেছে। ২০২৩-২৫ ব্যাচের ৩০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সম্মান জানান হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবসিন পরিবারের বিশিষ্ট সদস্য এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা। ছিলেন ‘গ্লোবসিন গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান বিক্রম দাশগুপ্ত, ‘গ্লোবসিন গ্রুপ’-এর ভাইস চেয়ারম্যান, অধ্যাপক আর. সি. ভট্টাচার্য; ‘কল্যাণী ফাউন্ডেশন’-এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি, রঞ্জনা দাশগুপ্ত এবং ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর ডিরেক্টর ও ট্রাস্টি রাহুল দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর প্রো-চ্যান্সেলর, স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ মহারাজ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘এমজংসন সার্ভিসেস লিমিটেড’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও বিনয় বর্মা। এছাড়াও ছিলেন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর প্রিন্সিপাল অভিষেক কুমার, অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তনী, অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীরা।

প্রধান অতিথি স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ মহারাজের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে, যেখানে মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক নেতৃত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ অতিথি বিনয় বর্মাও আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক জগতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সততা এবং শিল্পক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এই ২২তম সমাবর্তন শুধু ছাত্রছাত্রীদের নয়, তাদের সাফল্যের পেছনে থাকা সবার চেষ্টাকেও সম্মান জানিয়েছে। বিক্রম দাশগুপ্তর দৃষ্টিভঙ্গি, রাহুল দাশগুপ্তর নেতৃত্ব, শিক্ষকদের নিষ্ঠা এবং অভিভাবকদের বিশ্বাস, সব মিলিয়েই প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠানে।

বিক্রম দাশগুপ্ত বলেন, “আমাদের ২৫ বছরের পথচলা আমাদের শিখিয়েছে যে শিক্ষা কখনই একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকতে পারে না; তাকে সবসময় বদলাতে হবে এবং নতুন পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃত ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা পরিবেশগত এবং সামাজিক, দুই দিক থেকেই উন্নয়নের ধারণা গড়ে তোলে, যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু শিল্পক্ষেত্রের জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুত হয়ে ওঠে। আমি যাকে ‘বিয়ন্ড এডুকেশন’ বলি, সেই ধারণার মাধ্যমে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছি যেখানে তরুণেরা বেড়ে উঠতে পারে এবং সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল ম্যানেজার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

এই সমাবর্তন এই বছর আরও বিশেষ। অধ্যাপক আর. সি. ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, এটি শুধু ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার শেষ নয়, বরং ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর ২৫তম বছরে প্রবেশের সূচনাও। দুই দশকেরও বেশি সময়ের যাত্রার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কী ভাবে একটি ছোট শুরু থেকে জিবিএস আজ একটি উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে তৈরি হওয়া হাজার হাজার তরুণ ম্যানেজার আজ বিশ্বের নানা শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি ছিল এক সুন্দর ধারাবাহিকতার উৎসব। প্রতি বছর অনেক ছাত্রছাত্রী জিবিএস থেকে পাশ করে, তবুও এই দিনের অনুভূতি একই রকম থেকে যায়। ২০২৩-২৫ ব্যাচের জন্য এটি ছিল তাদের দুই বছরের পড়াশোনা, নানারকম চ্যালেঞ্জ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকাশ এবং একসঙ্গে শেখার পথচলার সমাপ্তি। পরিবার, শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সামনে ডিপ্লোমা নেওয়ার সময় আনন্দ আর গর্বে ভরে উঠেছিল সমগ্র হল।

নিজের বক্তব্যে রাহুল দাশগুপ্ত বলেন, “আজকের স্নাতক শিক্ষার্থীরা এই প্রতিষ্ঠানে তাদের দুই বছরের অভিজ্ঞতায় অনেক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে। গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুলে শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি গড়ে ওঠে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে পরিচয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত বদলে যাওয়া ব্যবসার জগতে সফল হওয়ার আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে।”

গত ২৫ বছরে পড়াশোনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছে। সূচনার দিন থেকে শুরু করে আজ ‘পূর্ব ভারতের উচ্চশিক্ষার মানদণ্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া পর্যন্ত, প্রতিষ্ঠানটি সবসময়ই নতুন ভাবনা, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতা এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটি ইন্ডাস্ট্রি-কেন্দ্রিক পড়াশোনা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৩-২৫ ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা এখন এমন এক সময়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যখন সুযোগের পরিধি দ্রুত বাড়ছে এবং দায়িত্বশীল, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত নেতৃত্বের প্রয়োজনও বেড়েছে।

এই প্রতিবেদনটি ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন