—প্রতীকী চিত্র।
শর্ট সার্কিটের জেরে এসি বিস্ফোরণ। সেখান থেকে বাড়ি বা বহুতলে অগ্নিকাণ্ড। গত কয়েক বছরে এই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর। শুধু তা-ই নয়, আগুনে ঝলসে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে বাসিন্দাদের। এই পরিস্থিতিতে উঠছে একটাই প্রশ্ন। এসি থেকে ঘরে আগুন লাগলে মিলবে বিমার টাকা? কী বলছে দেশের আইন?
বিমা সংস্থাগুলির দাবি, এসি থেকে বাড়ি বা বহুতলে দু’ভাবে লাগতে পারে আগুন। প্রথমত, কম্প্রেসার বিকল হয়ে গেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রে ঘটে বিস্ফোরণ। সেখান থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। দ্বিতীয়ত, বৈদ্যুতিন শর্ট সার্কিটের জেরেও এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে অবশ্য বিস্ফোরণের আশঙ্কা কিছুটা কম। তবে শর্ট সার্কিটের ক্ষেত্রে খুব কম সময়ে আগুনের গ্রাসে যেতে পারে গোটা বাড়ি বা বহুতল।
বিশ্লেষকদের দাবি, ‘হাউসহোল্ড প্যাকেজ পলিসি’র মতো গৃহরক্ষা বিমায় এই ধরনের বিস্ফোরণকে আওতাভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, শর্ট সার্কিটের জেরে এসি থেকে আগুন লাগলেও ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন গ্রাহক। কারণ, এই ধরনের বিমায় গৃহস্থলি বৈদ্যুতিন যন্ত্রের ‘কভারেজ’ নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসির মতোই ফ্রিজ় বা রেফ্রিজারেটরের জন্যেও বাড়ি ও বহুতলে আগুন লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, সে ক্ষেত্রেও গৃহসুরক্ষা বিমার সুবিধা পাবেন গ্রাহক। সংশ্লিষ্ট পলিসিগুলি সাধারণ ভাবে আসবাব, রান্নাঘরের সরঞ্জাম বা দেওয়াল আলমারির ক্ষয়ক্ষতিতে টাকা দিয়ে থাকে। আর তাই বিমা করার সময় বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের কভার পাওয়া যাবে কি না, তা ভাগ করে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, কিছু কিছু বিমার ক্ষেত্রে সরাসরি এসির ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। কিন্তু, তার পরও শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রে বিস্ফোরণ হলে টাকা পেতে পারেন গ্রাহক। তখন ঘরের দেওয়াল এবং ঘরে থাকা সম্পত্তির মেরামতির জন্য বিমার আবেদন করতে হবে তাঁকে।
তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। বাসিন্দাদের ভুলে বা ইচ্ছাকৃত ভাবে বাড়ি বা বহুতলে আগুন লাগানো হলে এবং সেখান থেকে এসির বিস্ফোরণ ঘটলে বিমার আবেদন করতে পারবেন না গ্রাহক। তা ছাড়া যুদ্ধ, পরমাণু বিস্ফোরণ, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিন ত্রুটি এবং আগুন লাগার সময় বা তার পরে চুরি যাওয়া সামগ্রীর জন্যেও টাকা দেবে না সংস্থা।
পাশাপাশি, ব্যাঙ্কের চেক, নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথি বা অঘোষিত মূল্যবান পাথর সাধারণ ভাবে আওতাভুক্ত করে না কোনও বিমা সংস্থা। এগুলির সুরক্ষা পেতে হলে বাড়তি টাকা দিতে হবে গ্রাহককে। আলাদা করে এর চুক্তি করাও প্রয়োজন।