—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
গৃহস্থের জন্য রান্নার গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করতে গিয়ে টান পড়েছে ওষুধ তৈরির কাঁচামালে। ফলে ওষুধের জোগান কমার এবং ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় মোদী সরকার এখন ফার্মাসিউটিক্যাল বা ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহে মন দিয়েছে।
কেন্দ্রের রসায়ন ও সার মন্ত্রকের ফার্মাসিউটিক্যালস দফতরের বক্তব্য, দেশে যাতে জরুরি প্রয়োজনের ওষুধের জোগান অব্যাহত থাকে, তার জন্য উৎপাদকদের কাঁচামাল সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। প্রপিলিন, অ্যামোনিয়া, মেথানলের মতো কাঁচামালের জোগান বাড়িয়েছে তেল শোধানাগারগুলি। ওষুধ তৈরির খরচ কমাতে ছাঁটা হয়েছে আমদানি শুল্ক। যাতে দাম স্থিতিশীল থাকে।
সরকারি সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরেই কাঁচামালে টান পড়েছিল। কিছুটা জাহাজ চলাচলে সমস্যা হওয়ায়, বাকিটা গৃহস্থের এলপিজি উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেওয়ায়। সব পেট্ররসায়ন পণ্য বন্ধ করে শুধু এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব বাজারে পেট্ররসায়নের দামও বেড়েছে। তবে এখনও ওষুধের দাম বাড়েনি এবং জোগানে সমস্যা হয়নি পাঁচ মাসের ওষুধ ও কাঁচামাল মজুত থাকায়। কিন্তু এই সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে মুশকিল হবে।
ফার্মাসিউটিক্যালস দফতরের যুগ্মসচিব টি এল সত্যপ্রকাশ জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগেই ওষুধ তৈরির বিপুল পেট্ররসায়ন কাঁচামাল আমদানি হয়েছিল। তার পরে, জাহাজ চলাচলে বাধা পড়ে। এখন আবার তেল শোধনাগারগুলি ওষুধ শিল্পের জন্য পেট্ররসায়ন তৈরিতে জোর দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ১৫,৪০০ টন এলপিজি নিয়ে আরও একটি ভারতীয় জাহাজ ‘গ্রিন আশা’ মুম্বই বন্দরে ভিড়েছে। এটিকে সম্প্রতি হরমুজ় প্রণালী পার করে আনা হয়েছিল। পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী আজ দু’দিনের সফরে কাতারে পৌঁছেছেন। ওই দেশ ভারতে সর্বাধিক এলএনজি (প্রাকৃতিক গ্যাস) দিত। মার্চে যুদ্ধের ধাক্কায় তাদের রফতানিই ছিল সর্বনিম্ন। কাতারের জ্বালানি পরিকাঠামোও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত। সপ্তাহান্তে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যাবেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, উপসাগরীয় এলাকায় বাকি দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে ভারত। জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে কৌশলগত সহযোগিতার গুরুত্ব, বিশেষত জ্বালানিতে। তেল-গ্যাস জোগানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করছি, যেটা জ্বালানির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।’’
আমেরিকা-ইরান ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও ভারত থেকে কবে জাহাজে পণ্য রফতানি স্বাভাবিক হবে, তা অস্পষ্ট। জাহাজ মন্ত্রক সমস্ত বন্দরকে রফতানিকারীদের সব রকম ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ, জাহাজ চলাচলের সমস্যায় বেড়েছে পরিবহণ খরচ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে