— প্রতীকী চিত্র।
চোদ্দ দিনের যুদ্ধবিরতির সামান্য প্রাণ ফিরিয়েছিল বাজারে। তবে পাকিস্তানে আমেরিকা-ইরানের শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া শান্ত হওয়ার আশু সম্ভবনা রইল না। রয়ে গেল অনিশ্চয়তা। ৩৯ দিনের ইরান যুদ্ধ যে সব সমস্যার জন্ম দিয়েছে, তা রাতারাতি মেটার নয়। ক্ষত তৈরি হয়েছে বহু ক্ষেত্রে। সংঘর্ষ ফের শুরু হলে যা বাড়বে। এখনও সাধারণ পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়েনি। তবে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৭৫ ডলারের উপরে থাকলে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন মেটার পরে বাড়ানো হতে পারে।
তেল, গ্যাস এবং আরও কিছু পণ্যের আমদানি কমায় ধাক্কা খাচ্ছে বহু শিল্প। দামও বেড়েছে অনেক জিনিসের। যেমন, বাড়িতে রান্নার এবং বাণিজ্যিক গ্যাস, প্রিমিয়াম পেট্রল-ডিজ়েল, রং, প্লাস্টিক পণ্য, প্লেনের টিকিট, গাড়ি, এসি, টেলিভিশন, কীটনাশক, সার, প্লাইউড ইত্যাদির। এতে চাহিদা মাথা নামাবে। মূল্যবৃদ্ধি বেলাগাম হলে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে সুদ বাড়াতে হবে। এপ্রিলের ঋণনীতিতে সুদ একই রেখেছে তারা। আজ বেরোবে মার্চের মূল্যবৃদ্ধি। আরবিআই-এর পরের বৈঠক জুনে। এ বছর আবহাওয়ার পূর্বাভাসও ভাল নয়। আশঙ্কা, এল-নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ৬% কম হবে। এতে কৃষি মার খেলে বাড়বে খাদ্যপণ্যের দাম।
আমেরিকার শুল্ক আর এক মাথাব্যথা। সেখানকার সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক খারিজ করেছে বটে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আইনের অন্যান্য ধারায় শুল্ক বসাতে আদালতে গিয়েছে। তার উপর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগেই ভারত শুল্ক নিয়ে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করে। তাতে শুল্ক চেপেছে বস্ত্র, দামি পাথর-গয়না, চামড়ার পণ্য, রাসায়নিক, সামুদ্রিক মাছ, গাড়ির যন্ত্রাংশ ইত্যাদিতে। আমেরিকার জন্য কৃষি-সহ অনেক পণ্যের বাজার খুলে দিতেও রাজি হয়েছে। আশঙ্কা, অর্থনীতিতে এর ফল ভাল হবে না। রফতানি আরও কমলে বিপাকে পড়বে শিল্প। বাড়বে ডলারের দাম। কর্মহীন হবেন বহু মানুষ। রফতানি বাড়াতে ভারত অবশ্য ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে। তবে সব মিলিয়ে তেমন আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। যদিও ভারতীয় অর্থনীতি এখনও খারাপ জায়গায় নেই। চলতি অর্থবর্ষে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৯%। আশাবাদী বিশ্ব ব্যাঙ্কও। তবে যুদ্ধ ফের শুরু হলে অবস্থা খারাপ হতে পারে।
গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে সংস্থার আর্থিক ফল প্রকাশ। জানুয়ারি-মার্চে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস ১২% মুনাফা বাড়িয়েছে। গত অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) জন্য শেয়ারে ৩১ টাকা চূড়ান্ত ডিভিডেন্ড দেবে। এ সপ্তাহে আইসিআইসিআই প্রুডেন্সিয়াল ও লোম্বার্ড, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, ইয়েস ব্যাঙ্ক, এইচডিবি ফিনান্সের ফল বেরনোর কথা। এটা চলবে মে-র শেষ পর্যন্ত। প্রভাব পড়বে বাজারেও।
এই অবস্থায় অনিশ্চিত বাজারে লগ্নির আগে সব কিছুতে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। সেই সব শেয়ার বাছতে হবে, যেগুলিতে যুদ্ধের প্রভাব কম, দেশের বাজার পোক্ত। ফান্ডের ক্ষেত্রে সাবধানীরা তহবিলের ৬৫% শেয়ার ভিত্তিক এবং ৩৫% ঋণপত্র ভিত্তিক লগ্নির ব্যালান্সড ফান্ড বাছতে পারেন। ঝুঁকি তুলনায় কম এবং কর-এ মেলে শেয়ার-নির্ভর ফান্ডের সুবিধা।
(মতামত ব্যক্তিগত)
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে