—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এ বার সমস্যা তৈরি করছে দেশের খাদ্যশস্য মোড়কের ব্যবস্থাতেও। এক দিকে, কাঁচা পাটের চড়া দামে বাজারে তার আকালের জেরে চটকলগুলিতে বস্তা উৎপাদন কমেছে। অন্য দিকে, যুদ্ধের কারণে অশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় টান পড়ছে প্লাস্টিকের বস্তা সরবরাহে। কারণ, পেট্রলিয়াম পণ্য থেকেই প্লাস্টিক তৈরি হয়। এরই মধ্যে এপ্রিল থেকে দেশে শুরু হতে চলেছে রবি ফসল তোলার কাজ। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যশস্য মোড়কের জন্য বস্তা পাওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছে কেন্দ্র। সমস্যা সামলাতে বৃহস্পতিবারই চটকল মালিকদের চিঠি দিয়ে দ্রুত বস্তা সরবরাহের জন্য তাগাদা দিয়েছে জুট কমিশনারের দফতর।
চলতি পাট মরসুমে (জুলাই ২০২৫-জুন ২০২৬) উৎপাদন তেমন ভাল না হওয়ায় চটকলগুলিতে কাঁচা পাটের সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এই আকালের সুযোগে বেশ কিছু মজুতদার পাট মজুত করায় সঙ্কট আরও বড় আকার নিয়েছে। ইতিমধ্যে কুইন্টালে পাটের দাম ঠেকেছে ১৬,৫০০-১৭,০০০ টাকায়। যা কেন্দ্রের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের প্রায় তিনগুণ। মজুতদারদের থেকে কাঁচা পাট এখনও উদ্ধার করা যায়নি। জুট কমিশনারের নির্দেশ, ১ এপ্রিলের মধ্যে মজুত করা সমস্ত পাট বাজারে ছাড়তে হবে। অন্যথা শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
জুট বেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ওম সোনি বলেন, ‘‘নির্দেশ সত্ত্বেও মজুতদারদের থেকে পাট উদ্ধার করা যায়নি। উল্টে পাটের বেআইনি লেনদেন শুরু হয়েছে। মজুতদারদের কাছে এখনও ৬ লক্ষ বেল (প্রতি বেল ১৮০ কেজি) পাট রয়েছে। তা বাজারে না এলে চটকলগুলিতে বস্তা উৎপাদন আরও কমবে।’’ তবে তাঁর দাবি, নির্দেশমতো ১ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত পাট বেলারদের থেকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তা একসঙ্গে বাজারে ছাড়াও যাবে না। তাই কেন্দ্রকে চিঠিতে মজুত পাট ছাড়ার শেষ তারিখ পিছিয়ে ৩০ এপ্রিল করার আর্জি জানিয়েছে সংগঠনটি। যাতে ধাপে ধাপে সেগুলি বাজারে আসে ও বস্তা তৈরি করা যায়।
অথচ এপ্রিলের গোড়া থেকে হরিয়ানা, পঞ্জাব ও মধ্যপ্রদেশে গম-সহ রবিশস্য কৃষক-বাজারে আসতে শুরু করবে। সাধারণত, খাদ্যশস্য বাজারে এলে সেগুলি কিনে বস্তাবন্দি করে কেন্দ্র। উদ্দেশ্য, দেশে রেশন ব্যবস্থা চালু রাখা। বর্তমানে আইনে খাদ্যশস্য রাখার জন্য চটের বস্তা ব্যবহারই বাধ্যতামূলক। তবে অনেক সময়ে চটকলগুলি বস্তার প্রয়োজন পুরো না মেটাতে পারলে ঘাটতি মোকাবিলায় প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এ বছর অশোধিত তেল আমদানি কমায় প্লাস্টিকের কাঁচামাল পাওয়া মুশকিল হচ্ছে। ফলে সরকারকে চটের বস্তার উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে।
চটকলগুলির সংগঠন আইজেএম-এর প্রাক্তন কর্তা সঞ্জয় কাজারিয়ার দাবি, ‘‘কাঁচা পাটের অভাবে মিলগুলির উৎপাদন ৪০% কমেছে। এখন শুধুই বস্তা তৈরি হচ্ছে। আপ্রাণ চেষ্টা করছি যাতে বস্তা সরবরাহ করা যায়।’’ সঙ্কটের কথা মেনেও, সমস্যা মোকাবিলায় তারা সক্ষম হবে বলে দাবি জুট কমিশনারের দফতরের। দেখার কতটা সাফল্য মেলে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে