—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
‘কাজটা ভাল হয়নি, ফল আপনাকে পেতেই হবে’— ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে এ ভাবেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলা বুথ স্তরের আধিকারিককে (বিএলও)। আতঙ্কে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পঞ্চসায়র থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণীর নাম কস্তুরী গৌতম। পেশায় স্কুলশিক্ষিকা কস্তুরী পঞ্চসায়র থানা এলাকার বাসিন্দা। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১১৪ নম্বর পার্টে তিনি বিএলও হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। কস্তুরীর দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তাঁর এলাকার ভোটার তালিকা থেকে পাঁচ জনের নাম বাদ যায় (ডিলিটেড)। ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরে এই বিষয়টি জানাজানি হতেই নাম বাদ যাওয়া পাঁচ জনের মধ্যে এক ব্যক্তি অভিযোগকারী বিএলও-কে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ। মোবাইলে একাধিক ভিডিয়ো পাঠিয়ে কেন ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে কস্তুরীকেই দায়ী করতে থাকেন ওই অভিযুক্ত।
লিখিত অভিযোগে মহিলা জানিয়েছেন, গত শনিবার থেকে তাঁর মোবাইলে হুমকি মেসেজ পাঠানো শুরু করেন অভিযুক্ত। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার জন্য ‘ফল ভুগতে হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কস্তুরী জানান, যিনি হুমকি দিচ্ছেন, তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। তাঁর বাবা-মায়ের নামও ওই ব্যক্তি সেখানে দেখাতে পারেননি। ফলে, ফর্ম পূরণ করলেও বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ চলে গিয়েছে। কস্তুরীর কথায়, ‘‘বাদ যাওয়ার পরেও আমি ওই ব্যক্তিকে একাধিক বার পরবর্তী যা যা পদক্ষেপ আছে, তার জন্য সাহায্য করেছি। কিন্তু তার পরেও আমাকেই নাম বাদ যাওয়ার জন্য দায়ী করে হুমকি দিচ্ছেন।’’
যুবকের হুমকিতে রীতিমতো আতঙ্কিত ওই মহিলা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্কুলে যেতেও তিনি ভয় পাচ্ছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। কস্তুরী বলেন, ‘‘সন্তানকে নিয়ে থাকি। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কাজ চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিক বার বাড়িতে এসেছেন। বাড়ি চেনেন। রাস্তায় যে আমাকে কিছু করবেন না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?’’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কস্তুরী প্রথম পঞ্চসায়র থানায় বিষয়টি জানান। পুলিশের পরামর্শেই তিনি লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে বুধবার মামলা রুজু করেছে থানা। তবে অভিযুক্ত এখনও অধরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে