ইরানের উপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ওঠার জেরে ফের পড়ল তেলের দাম। সোমবার দুপুরে উচুঁ মানের তেল ব্রেন্টের দর নেমে গিয়েছিল ২৮ ডলারের নীচে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম। পরে অবশ্য তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
গত শনিবারই প্রায় এক দশক ধরে ইরানের উপর চেপে থাকা আন্তর্জাতিক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তোলার কথা ঘোষণা করেছে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইরানও জানিয়েছে, এর পর প্রাথমিক ভাবে রফতানির পরিমাণ দিনে ৫ লক্ষ ব্যারেল বাড়াবে তারা। কিন্তু তাদের তেল বাজারে আসার আগেই চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যের যা হাল, তাতে বিশ্ব বাজারে তেলের দর ২০ ডলারের নীচে নেমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত ছ’বছরে অশোধিত তেলের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করেছে আমেরিকা। সেই তেল এশিয়ার লোভনীয় বাজারে বেচতে চায় তারা। তেলের বাজারে যে কোনও মূল্যে নিজেদের কব্জা কায়েম রাখতে বদ্ধপরিকর সৌরি আরব-সহ ওপেক দেশগুলি। যে কারণে তেলের দাম ক্রমাগত কমা সত্ত্বেও উৎপাদন ছাঁটাই করেনি তারা। অন্য দিকে, রাশিয়ার মতো দেশও তেলের রফতানি বাড়িয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে এমনিতেই চাহিদার তুলনায় জোগান বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। তার উপর যদি ইরান তেল রফতানির পরিমাণ বাড়ায়, তা হলে তেলের দর কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে আশঙ্কায় ভুগছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এইচএসবিসি-র সিইও স্টুয়ার্ট গ্যালিভারের মতে, উৎপাদনকারী দেশগুলি দিনে ২০ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ ব্যারেল তেল জোগাচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট বেশি। কিন্তু এ ভাবে কত দিন উৎপাদন বাড়ানোর পদ্ধতি দেশগুলি ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের অন্য অংশের অবশ্য মত, গত ১২ থেকে ১৮ মাসে ধরে নিষেধাজ্ঞা ওঠার পরই দিনে ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানির কথা বলে আসছিল ইরান। কিন্তু এখন সেই অঙ্কই অর্ধেক হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষে। এর থেকেই বোঝা যায় ওই পরিমাণ তেল বাজারে আনার জন্য এখনও তৈরি নয় ইরান। দীর্ঘ দিন ধরে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা চেপে থাকায়, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে উপযুক্ত লগ্নি পায়নি তারা। ফলে চাইলেই অতটা পরিমাণ রফতানি এখনই করা সম্ভব হবে না ইরানের পক্ষে। তবে প্রাথমিক ধাক্কা যে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। সে ক্ষেত্রে আগামী কয়েক দিনে তেল আরও নামতে পারে বলে আশঙ্কা।