WB Assembly Election 2026

তিন জনেরই বয়স ১১২, ভোটবাক্সে মত জানিয়েছেন আগেই! সবচেয়ে বয়স্ক তিন ভোটারকে নিয়ে মশগুল পশ্চিম মেদিনীপুর

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১০০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে ভোটার রয়েছেন ৩২৯ জন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়স এই তিন মহিলারই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৩
Share:

পশ্চিম মেদিনীপুরের ১১২ বছর বয়সি তিন ভোটার। —নিজস্ব চিত্র।

এক জনের শখ প্রতি দিন এক কিলোমিটার হাঁটা। আর এক জনের টিফিনে চাই তেঁতুলের টক, চুনো মাছ ভাজা এবং পান্তা ভাত। অন্য জনের প্রিয় লিকার চা। তবে ভাতের পাতে টক আর দিনে ১০টার বেশি দোক্তা পান ছাড়া তাঁর চলে না!

Advertisement

শখ বা অভ্যাসে তিন জন আলাদা হলেও তিন জনের মধ্যে মিল রয়েছে কিছু। তিন জনেরই বয়স ১১২ বছর। তিন জনই মহিলা। তিন জনের উচ্চতাই প্রায় চার ফুট। তিন জনই পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। তবে আলাদা আলাদা জায়গার। ইতিমধ্যেই বাড়িতে বসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তিন জনই। তবে প্রথম দফার ভোটের আগে এই তিন জনকে নিয়ে মশগুল পশ্চিম মেদিনীপুর।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১০০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে ভোটার রয়েছেন ৩২৯ জন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়স এই তিন মহিলারই। তাঁদের মধ্যে উষারানি মাল নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা। অন্য দু’জন ভুয়ান্তি মান্না এবং সর্বাণী মিশ্রের বাড়ি যথাক্রমে দাঁতন এবং পিংলায়।

Advertisement

৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারদের জন্য বাড়ি বাড়ি ভোট গ্রহণ শুরু হয় ১৪ এপ্রিল। ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে সেই প্রক্রিয়া। এর মধ্যেই বাড়িতে বসে ভোট দিয়েছেন উষারানিরা। এই উষারানি নারায়ণগড় বিধানসভার ৫৪ নম্বর বুথের ভোটার। ছয় পুত্রসন্তান তাঁর। তবে বছর সাতেক আগে বড় পুত্রকে হারিয়েছেন। ৪০ বছর আগে মারা যান স্বামীও। ছেলে, বৌমা, নাতি নাতনি এবং তাঁদের ছেলেমেয়ে নিয়ে বর্তমানে তাঁর সংসার ৩৫ জনের। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়লেও এখনও সুস্থই রয়েছেন তিনি। তাঁর খাবারের মেনুতে থাকে মাছ, ডিম। তবে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। উষার কথায়, ‘‘প্রতি দিন সকাল বা বিকেলে পাড়ায় হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়াই। আগে ভোট দিতে যেতাম এখন আর পারি না।’’

বয়স হলেও কাউকে চিনতে সমস্যা নেই উষারানির। দাঁত এখনও শক্ত রয়েছে। তাঁর বড় নাতি, পেশায় গৃহশিক্ষক সুশান্ত বলেন, ‘‘ঠাকুমা এখনও নিজের কাজ নিজেই করেন। স্নান থেকে শুরু করে খাওয়া নিজের হাতেই করেন। আগে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতাম এখন তো বাড়িতেই বসে ভোট দেন।’’

Advertisement

দাঁতনের বন্ধুচকের ভুয়ান্তি কানে একটু কম শোনে, তবে কথা বলা বা দৃষ্টিশক্তি এখনও প্রখর। লাঠির উপর ভর করে চলাফেরা করেন। তাঁর বয়স ১০০ বছর হওয়ার পর অন্নপ্রাশন করেছিল পরিবার। দাঁত পড়ে গিয়েছে। তিন মেয়ের মধ্যে এক জনকে হারিয়েছেন ভুয়ান্তি। তাঁর এক ছেলেও রয়েছে। তাঁর সংসারেই থাকেন ভুয়ান্তি। বার্ধক্যজনিত তেমন কোনও রোগ বাসা করেনি তাঁর শরীরে। গ্রামবাসীরা বাড়িতে এসে প্রতি দিনই এক বার করে দেখা করে যান তাঁর সঙ্গে। নিজের হাতেই খান। তবে খাবার পাতে মাছ চাই চাই।

পিংলার পিণ্ডরুই গ্রামে বাড়ি সর্বাণীর। কানে কম শোনেন, চোখেও একটু কম দেখেন। বয়সের ভারে হাটতে পারেন না, দাঁত পড়ে গিয়েছে। তবে টক, পান্তা ভাত সবচেয়ে প্রিয়। তা ছাড়া সারা দিনে লিকার চা চাই তাঁর। দোক্তা পানও চাই সর্বাণীর। তিন ছেলে, চার মেয়ের মধ্যে এক ছেলে-মেয়ে মারা গিয়েছেন। ছোট ছেলে লক্ষ্মীকান্তে সঙ্গে থাকেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement