—প্রতীকী চিত্র।
ডুবোজাহাজ, লড়াকু জেট থেকে ড্রোন। রেডার কিংবা লেজ়ার হাতিয়ার। জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরিতে আগ্রহী ভারত। এই সংক্রান্ত সমঝোতায় চূড়ান্ত সিলমোহর দিতে তিন দিনের বার্লিন সফরে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হু-হু করে বাড়ছে সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণকারী সংস্থাগুলির স্টকের দর। এর জেরে অস্থির বাজারেও লগ্নিকারীদের মুখের হাসি যে চওড়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
চলতি বছরের ২১ এপ্রিল, মঙ্গলবার বম্বে এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে ছ’শতাংশ বৃদ্ধি পায় প্রতিরক্ষা শেয়ারের দাম। দিনভর মাজ়গাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড, জেন টেকনোলজ়িস লিমিটেড, ডেটা প্যাটার্নস, অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ এবং এমটার টেকের মতো সংস্থাগুলির সূচককে ঊর্ধ্বমুখী থাকতে দেখা গিয়েছে। এই প্রবণতা আগামী কয়েক দিন বজায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
সূত্রের খবর, এ বারের জার্মানি সফরে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছ’টি ‘স্টেলথ’ শ্রেণির ডুবোজাহাজের চুক্তি চূড়ান্ত করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এর জন্য বার্লিনে ৫০০ কোটি ইউরোর (ভারতীয় মুদ্রায় ৫৪,৯২০ কোটি টাকা) একটি সমঝোতা হওয়ার কথা রয়েছে। জার্মান সংস্থা থাইসেনক্রুপ মরিন সিস্টেম্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতি মেনে ডুবোজাহাজগুলি তৈরি করবে মাজ়গাঁও ডক শিপবিল্ডার্স। ফলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাটির শেয়ারের দামে রকেটগতি দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
২১ এপ্রিল, মঙ্গলবার বাজার বন্ধ হলে দেখা যায় প্রায় ৪০ টাকা বেড়ে ২৬৬০.৮০ টাকায় পৌঁছেছে মাজ়গাঁও ডক শিপবিল্ডার্সের শেয়ারের দাম। অর্থাৎ ১.৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এর সূচক। শেষ পাঁচ দিনে ১৩০ টাকা মুনাফা করেছেন মাজ়গাঁওয়ের লগ্নিকারীরা। আর গত এক মাসে লাভের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২০.৫৮ শতাংশ।
এ ছাড়া ২১ এপ্রিল, মঙ্গলবার ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পায় জেন টেকনোলজিসের স্টকের দর। ফলে নিফটি ইন্ডিয়া ডিফেন্স সূচকে মুনাফার নিরিখে প্রথম স্থানে উঠে আসে এই সংস্থা। অন্যান্যা সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণকারীদের মধ্যে ডেটা প্যাটার্নস, অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ এবং এমটার টেকের শেয়ারের দাম যথাক্রমে পাঁচ শতাংশ, ৩.৮৫ শতাংশ এবং ৩.১ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)