PM Narendra Modi

লগ্নিতে উৎসাহ দেখাচ্ছে না শিল্প মহল, অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে কর্পোরেটকে আহ্বান মোদীর

আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়াতে কোভিড পরবর্তী সময়ে পরিকাঠামো তথা মূলধনী খাতে বিপুল খরচ করেছে মোদী সরকার। এ বার বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই খাতে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫৭
Share:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।

মোদী সরকার আর্থিক সংস্কারের প্রচার করলেও, লগ্নিতে এখনও উৎসাহ দেখাচ্ছে না শিল্প মহল। এই অবস্থায় অর্থনীতির চাকা জোর গতিতে সচল রাখতে ফের কর্পোরেট মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেনপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাজেটএবং আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরে রবিবার সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর বার্তা, মুনাফায় কম জোর দিয়ে বেশি করে পণ্যের গুণগত মান, গবেষণা-উন্নয়ন ও জোগানশৃঙ্খলে লগ্নিতে নজর দিক বেসরকারি সংস্থাগুলি।

আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়াতে কোভিড পরবর্তী সময়ে পরিকাঠামো তথা মূলধনী খাতে বিপুল খরচ করেছে মোদী সরকার। এ বার বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই খাতে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। বার্তা দিয়েছেন, পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি এবং অর্থনীতিতে নতুন উদীয়মান ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার। কিন্তু বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্পোরেট মহলে তিন বছর ধরে নতুন লগ্নি প্রকল্পের পরিমাণ টানা কমছে। চলতি অর্থবর্ষের শুরুতে কেন্দ্রের সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছিল সেই ছবি।

আজ মোদী বলেছেন, ভারত উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। সে কথা মাথায় রেখেই পেশ হয়েছে বাজেট। এ বার সে জন্য বেসরকারি শিল্পকে আরও বেশি করে গবেষণা, উন্নয়নে লগ্নি করতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতির বেহাল দশার মধ্যেও ভারত ভাল জায়গায় রয়েছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিপুল পরিমাণে পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রকল্পের ছক কষা ও রূপায়ণ করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “উদ্ভাবন, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্প মহলের সাহসী লগ্নির উপরে বিকশিত ভারতের পথে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।”

এর পরেই কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, “প্রধানমন্ত্রী জানেন যে বাজেট ফিকে ছিল। তাতে চিন্তাভাবনার অভাব স্পষ্ট। শেয়ার বাজারের প্রতিক্রিয়াও ছিল নেতিবাচক। তাই বাজেট পেশের ১৫ দিন পরে, সংসদে বিরোধীদের সমালোচনার পরে, প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন। তাঁর ঢাক পেটানোর সঙ্গে বাস্তবের সম্পর্ক নেই।” বাণিজ্য চুক্তিতে ভারত আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলেও আজ ফের অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। তবে মোদীর দাবি, কল-কারখানায় উৎপাদন, পরিষেবা ক্ষেত্র ও ছোট-মাঝারি শিল্পে ক্ষমতার জোরে দর কষাকষি করেছে ভারত। তাঁর অভিযোগ, ইউপিএ জমানায় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েও ভেস্তে যেত। দীর্ঘ দর কষাকষি করে সামান্য লক্ষ্য পূরণ হত।

রবিবার অবশ্য ফের মোদীকে তির ছুড়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন, ‘‘আমেরিকা থেকে পশুখাদ্য আমদানির ফলে কি সেখানকার জিনগতভাবে পরিবর্তিত ভু্ট্টা থেকে তৈরি খাবার এ দেশের গবাদি পশুকে খাওয়ানো হবে? জিন-প্রযুক্তিতে তৈরি সয়াবিন তেল এলে দেশের চাষিদের কী হবে? আরও অন্য পণ্য বলে চুক্তির বিবৃতিতে যে অংশ খোলা রাখা হয়েছে, তাতে কী রয়েছে? ভারত কি শুল্ক ছাড়া জিন-প্রযুক্তিতে তৈরি শস্য আমদানিতে বাধা তুলবে? আরও কৃষি পণ্য কি আমদানি করা হবে?’’ তবে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের অভিযোগ, রাহুল মিথ্যা প্রচার করছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন