Fire Break

ওই ট্রেনেই যাওয়ার কথা ছিল আমার

একটা স্টেশন মানে কত লোকের আসা-যাওয়া, হকার, রেলকর্মী, ব্যবসায়ী সবাই থাকেন। যদি অন্য কোনও সময়ে হত, কী ঘটত ভাবতেই ভয় লাগছে।

প্রশান্ত দেবনাথ, প্রত্যক্ষদর্শী রেলযাত্রী

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৫
Share:

কাটোয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জারের কামরায় জ্বলছে আগুন। নিজস্ব চিত্র।

আর ঘণ্টা দুয়েক পরে হলেই ওই ট্রেনে থাকতাম আমি। ভেবেই শিউড়ে উঠছি। ভয়ঙ্কর আগুন লেগেছিল। কী ভাবে যে আগুন লাগল, শীঘ্র তদন্ত করা উচিত।

বাড়ি ফিরতে না পেরে শনিবার রাতে কাটোয়া স্টেশনেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি শেডের নীচে ঘুমিয়েছিলাম। রবিবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ পোড়া গন্ধ বেরোতেই ঘুম ভেঙে যায়। উঠে বসে দেখি, চারদিকে আওয়াজ, ছোটাছুটি। ভাল করে তাকিয়ে দেখি ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার ওই ট্রেনটির একটি কামরার একাংশে আগুন লেগেছে। দ্রুত উঠে দাঁড়াই। ভাবছি, স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিত কি না। তত ক্ষণে রেল পুলিশ ও জিআরপি ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের চার দিক ঘিরে ফেলেছিল। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ট্রেনের কামরার জানলা, দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। স্টেশনে যাত্রী তেমন না থাকলেও চিৎকার চেঁচামিচি শুরু হয়ে যায়। খানিক বাদেই দমকলের দু’টি ইঞ্জিন আসে। দমকলকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রায় ঘণ্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হন। আগুনের গ্রাসে পড়া কামরাটিকে দুই প্রান্ত থেকে বাকি কামরাগুলি থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। চোখের সামনে কোনও দিন এ ভাবে ট্রেন আগুনে পুড়তে দেখিনি। কামরার ভিতরের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। বরাত জোরে প্রাণহানি হয়নি। তবে স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একটা স্টেশন মানে কত লোকের আসা-যাওয়া, হকার, রেলকর্মী, ব্যবসায়ী সবাই থাকেন। যদি অন্য কোনও সময়ে হত, কী ঘটত ভাবতেই ভয় লাগছে।

এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা, না কি অন্তর্ঘাত রয়েছে, তা নিয়ে অনেকের মতো আমার মনেও প্রশ্ন আছে। তদন্ত হোক। যাত্রী নিরাপত্তায় আরও জোর দেওয়া দরকার।

আগুন নিভে যাওয়ার পরে দুশ্চিন্তা কাটে ঠিকই। তখন মাথার মধ্যে ঘুরছিল, সকালে ওই ট্রেনটি ধরেই তো আজিমগঞ্জ যাওয়ায় কথা ছিল আমার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন