Antibiotic Resistance

অ্যান্টিবায়োটিক যখন-তখন খাওয়া যাবে না, বিধি আনছে আইসিএমআর, চিকিৎসকদেরও মানতে হবে নিয়ম

রোগ হল, আর কিছু না বুঝেই অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেয়ে ফেললাম! এই অভ্যাস এ বার ছাড়তে হবে। যখন তখন আর অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। রোগীকে দেওয়ার আগে চিকিৎসকদেরও মানতে হবে কিছু নিয়ম। কড়া বিধি নিয়ে আসছে আইসিএমআর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৩
Share:

অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে নতুন কী নির্দেশিকা আইসিএমআরের? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অ্যান্টিবায়োটিক আর ঠিকমতো কাজ করছে না অনেকের শরীরেই। ডোজ় না জেনেই মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়ে ফেলার প্রভাব যে কতটা ভয়ঙ্কর, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে। ইন্ডিয়ার কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) সম্প্রতি তাদের একটি সমীক্ষায় দাবি করেছে, বেশ কিছু ব্যাক্টেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। ফলে মূত্রনালির সংক্রমণ, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, রক্তের কয়েক রকম সংক্রমণজনিত রোগ সারাতে আর চেনা ওষুধগুলি কাজেই লাগছে না। এই সমস্যার নাম ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স’ না নিয়ে বিশ্ব জুড়েই গবেষকেরা মাথা ঘামাচ্ছেন। এরই সমাধানে এ বার নতুন ব্যবহার বিধি আনতে চলেছে আইসিএমআর।

Advertisement

যখন খুশি ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। রোগীকে দেওয়ার আগেও নিয়ম মানতে হবে চিকিৎসকদের। কী কী সেই নিয়ম, তা নিয়ে নতুন নির্দেশিকা আসতে চলেছে। এমনই জানিয়েছেন, আইসিএমআরের প্রধান রাজীব বহেল। তিনি জানান, রোগীর যত ক্ষণ না স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আসছে এবং রোগটি ঠিক কী, তা সঠিক শনাক্তকরণ হচ্ছে, ততদিন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। যদি রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয় এবং চিকিৎসক বোঝেন অ্য়ান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তা হলে আইসিএমআরের নির্দেশিকা মতোই ওষুধ দিতে হবে।

প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার সময়েও নিয়ম মানতে হবে। কোন রোগের জন্য কেন ওষুধটি দেওয়া হচ্ছে, কারণ এবং যৌক্তিকতা উল্লেখ করতে হবে। শুধু চিকিৎসক নয়, সতর্ক হতে হবে ওষুধ বিক্রেতাদেরও। কোনও রকম বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া গ্রাহকদের কোনও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া যাবে না। চিকিৎসকেদের নির্ধারণ করা ডোজ় ও কারণ দেখে তবেই দিতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ। আইসিএমআর প্রধান জানিয়েছেন, এমনও দেখা গিয়েছে চিকিৎসক রোগীকে অ্য়ান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধ খাইয়েছেন, কিন্তু পরে টেস্ট রিপোর্টে দেখা গিয়েছে সেই ব্যক্তির ছত্রাকঘটিত কোনও সংক্রমণই হয়নি। কাজেই অ্যান্টিবায়োটিক দিতে গেলে তার আগে মেডিক্যাল টেস্ট হওয়া জরুরি।

Advertisement

এই বিষয়ে মেডিসিনের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার বলছেন, “প্রতি বছর শুধুমাত্র ভারতেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণে মৃত্যু হয় অনেক শিশুর। সচেতন না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এমন সময় আসবে, যখন বেশ কিছু চেনা অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না শরীরে। অসুখ প্রতিরোধী অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যক্ষমতা হারাবে। শক্তিশালী হয়ে উঠবে জীবাণুরা।” তাই সতর্ক থাকা খুব জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement