তমলুক পুরসভার শিবিরে যুব সাথীর ফর্মপূরণের ব্যস্ততা তরুণদের। — নিজস্ব চিত্র।
শুরু হল রাজ্য সরকারের ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবির। রবিবারের ছুটির দিনে এই শিবির শুরু হলেও জেলা জুড়ে প্রথম দিনে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের সুবিধা নিতে ভিড় করেছেন বেকার যুবক-যুবতীরা। তবে ব্যতিক্রমী ভাবে কম আবেদন জমা পড়েছে শিল্পশহর হলদিয়া লাগোয়া কয়েকটি ব্লকে।
মাধ্যমিক পাশ বেকার যুব সম্প্রদায়কে মাসিক দেড় হাজার টাকা ভাতা দিতে রাজ্য সরকার ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে শুরু করেছে। আবেদন জমা নেওয়া শুরু হয়েছে রবিবার। এ দিন বিভিন্ন পুরসভা, ব্লক এলাকার মোট ৩১টি জায়গায় ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবির করে আবেদন জমা নেওয়া হয়। এ ছাড়া, শিবিরে ভূমিহীন খেত মজুরদের প্রতি বছর চার হাজার টাকা, কৃষি কাজে ক্ষুদ্র সেচের বিদ্যুৎ বিল মকুবের আবেদনও শিবিরে নেওয়া হচ্ছে। এ দিনের শিবির প্রসঙ্গে জেলাশাসক ইউনিস রিশিন ইসমাইল জানান, ‘‘প্রথম দিনের শিবিরে জেলায় যুব সাথী প্রকল্পে প্রায় ১৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। প্রকল্প মিলিয়ে ২৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।’’
শিবিরগুলিতে যুব সম্প্রদায়ের ভিড় ছিল ভালই। জেলা সদর তমলুকের পুরসভা অফিসের মহেন্দ্র স্মৃতি সদনে শিবির হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই তরুণ-তরুণীদের ভিড় দেখা যায়। শিবিরে আসা অধিকাংশ আবেদনকারীই উচ্চ-শিক্ষিত। কেউ স্নাতকোত্তর, কেউ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী। তমলুকের বাসিন্দা পার্থ দাস ২০২৩ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে পাশ করেছেন। রয়েছে বিএড ডিগ্রিও। পার্থ বলেন, ‘‘সরকারি চাকরির সুযোগই তো এখন কমে গিয়েছে। যে সব সরকারি চাকরির পরীক্ষা হচ্ছে, সেগুলির ফর্মের দামও অনেক। এই ভাতা কিছুটা হলেও সাহায্যকারী হবে।’’
কোলাঘাট ব্লকে শিবির হয়েছিল পানশিলার সরকারি ফুল বাজারে। প্রায় ১৫০০ জন আবেদনকারী আসেন। যুব সাথী প্রকল্পে অন্তত ১২৯০ জন আবেদন করেন। আবার পাঁশকুড়া পুরসভায় বিদ্যাসাগর হলে আয়োজিত শিবিরে অন্তত ১১০০টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১০৩০টিই যুব সাথীর। পাঁশকুড়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাংলায় স্নাতক উত্তীর্ণ নাহিদা নাজমিন বলেন, ‘‘পড়াশোনা করার পর যদি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেতাম তাহলে এই ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে হত না।’’ আবার নন্দীগ্রামের শেখ ওবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘‘চার বছর ধরে চাকরি হয়নি। বাধ্য হয়ে ভাতা নিচ্ছি। এই টাকা দিয়ে খাবারের দোকান খুলতে হবে।’’ কাঁথিতে অরবিন্দ স্টেডিয়াম, রামনগর -২ বিডিও অফিস সংলগ্ন মাঠের মোটামুটি ভিড় দেখা গিয়েছে শিবিরে।
সুতাহাটা বিডিও অফিসে যুব সাথী শিবির কার্যত ফাঁকা। — নিজস্ব চিত্র।
এ দিন সুতাহাটা এবং হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের শিবির প্রায় সারাদিন ফাঁকা থেকেছে। সুতাহাটা ব্লক অফিসে এবং হলদিয়ার সিটি সেন্টারের শিবিরে দুপুর পর্যন্ত কার্যত মাছি তাড়ানোর অবস্থা। বিকেল পর্যন্ত সুতাহাটা ব্লকে যুব সাথী প্রকল্পে ১৯১টি, খেত মজুর ভাতার জন্য ২৭ জন এবং লক্ষ্মীর ভান্ডারে প্রকল্পে তিনজন আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন। আর হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকে সব মিলিয়ে ৫০০ টির মতো (যুব সাথী ৩১১টি) কাছাকাছি আবেদন পত্র জমা পড়েছে। যা দেখে বিজেপির জেলা (তমলুক) সহ-সভাপতি আনন্দময় অধিকারী বলেন, ‘‘শিল্পাঞ্চলের যুবক-যুবতীরা ভাতা নয়, কারখানার গেটে লাইন দিতে চায়।’’
এ দিন প্রতিটি জায়গাতেই সরকারি শিবিরের অদূরেই যুব তৃণমূলের তরফে সহায়তা শিবির খোলা হয়েছিল। সেখানে আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করা হয়। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিভাস কর বলেন, ‘‘প্রথম দিনেই শিবিরে যুব সাথী-সহ অন্য প্রকল্পে আবেদন জমা দিতে ভিড় ভালই ছিল।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে