Board of Peace

গাজ়ার পুনর্গঠনের জন্য ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সদস্যেরা ৫০০ কোটি ডলার সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন, দাবি করলেন ট্রাম্প

ট্রাম্প জানিয়েছেন, অর্থসাহায্যের অঙ্গীকার করার পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলি গাজ়ার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনীতে সেনা পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৯
Share:

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজ়ার পুনর্গঠনের জন্য ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সদস্যেরা ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থসাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন! রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সদস্যদের নিয়ে প্রথম বৈঠকটি হবে। সেই বৈঠক থেকেই অর্থসাহায্য সংক্রান্ত ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

Advertisement

ইজ়রায়েল এবং প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সংঘাতে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজ়া। এই পরিস্থিতিতে গাজ়ার পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগেই গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে বোর্ড অফ পিস-এর সূচনা হয়। আমেরিকার তরফে ভারত-সহ প্রায় ৬০টি দেশকে এই শান্তিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও ওয়াশিংটনের আহ্বানে এখনও অবধি সাড়া দিয়েছে কমবেশি ২০টি দেশ। বৃহস্পতিবার এই শান্তিগোষ্ঠীর প্রথম বৈঠকে ক’টি দেশ যোগ দেবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, অর্থসাহায্যের অঙ্গীকার করার পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলি গাজ়ার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনীতে সেনা পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী হবে এই বোর্ড অফ পিস। এর চেয়ারম্যান হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।”

Advertisement

গত ২৩ জানুয়ারি সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সনদে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৯টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা প্রতিনিধিরা। যে ১১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন, সেগুলি হল আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজ়ারবাইজান, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কসোভা, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে এবং উজবেকিস্তান। যে আটটি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, সেগুলি হল বাহরিন, জর্ডন, মরক্কো, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং মঙ্গোলিয়া। ভারতের কোনও প্রতিনিধিই বোর্ড অফ পিস-এর সূচনায় ছিলেন না। একই ভাবে ছিলেন না তাইল্যান্ড, ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির কোনও প্রতিনিধিও।

প্রাথমিক ভাবে গাজ়া শান্তি ফেরানোর জন্য তৈরি হলেও ‘বোর্ড অফ পিস’-এর নেপথ্যে ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে। আসলে সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নতুন আন্তর্জাতিক বোর্ড গঠন করতে চাইছেন ট্রাম্প। প্রাথমিক ভাবে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর কাজ শুরু হবে গাজ়া দিয়ে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সফল হলে বিশ্বের অন্যান্য সমস্যা নিয়েও এই বোর্ড কাজ করবে। ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিলে তিন বছরের সদস্যপদ পাবে দেশগুলি। ১০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা) দিলে মিলবে স্থায়ী সদস্যপদ। যদিও ট্রাম্পের এই শান্তিগোষ্ঠী ক্রমশ রাষ্ট্রপুঞ্জের বিকল্প হয়ে ওঠার চেষ্টা করবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement