Share Market

অর্থনীতি স্থিতিশীল, তবু বাণিজ্যচুক্তি আর এআই-বাণে ঘায়েল শেয়ার বাজার

দেশের অর্থনীতিতে আয়কর ও জিএসটি কমার সুফল ফলতে শুরু করেছে। জানুয়ারিতে গাড়ি বিক্রি মাথা তুলেছে ১৭.৬%। বাড়ছে স্বল্পমেয়াদি ভোগ্যপণ্যের চাহিদা।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫০
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

দেশের অর্থনীতি মোটের উপর স্থিতিশীল। কিন্তু শেয়ার বাজার উত্তাল বিদেশ থেকে আসা নানা সমস্যায়। অন্তর্বর্তী বোঝাপড়া সত্ত্বেও, আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক নিয়ে টানাপড়েন পুরো মেটেনি। দু’দেশের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণায় তাই বাজার উল্লসিত হলেও, পরে চুক্তিপত্র দেখে সূচক চুপসে যায়। এখনও স্পষ্ট নয় যে, এই সমঝোতাকে দাঁড়িপাল্লায় চাপালে, ভারতের লাভ বেশি দেখা যাবে, নাকি লোকসান। মোদী সরকার ভালর দিকগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, সম্ভাব্য লোকসানের দিকগুলিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে কারণে এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা রয়েছে বাজারে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কৃত্রিম মেধা (এআই) জনিত সমস্যা। এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিক ‘কোওয়ার্ক’ নামে উন্নত ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যাতে অনেক সনাতন তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার প্রয়োজন হবে না। বাজারে আশঙ্কা, এতে ব্যবসা হারাতে পারে বহু প্রথাগত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। কাজ যেতে পারে বিভিন্ন শিল্পের অসংখ্য কর্মীর। তাই এই খবর সামনে আসায় পতন শুরু হয় প্রায় সব তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারের। যা টেনে নামায় গোটা বাজারকে। শুক্রবার সেনসেক্স খোয়ায় ১০৪৮ পয়েন্ট। বিদেশি লগ্নিকারীরা বিক্রি করে ৭৩৯৫ কোটি টাকার শেয়ার। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্যে দাঁড়িয়ে এই সমস্যা সামাল দেওয়া খুব সহজ হবে না। এই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে মিউচুয়াল ফান্ডেও।

তবে এর মধ্যেও দেশের অর্থনীতিতে আয়কর ও জিএসটি কমার সুফল ফলতে শুরু করেছে। জানুয়ারিতে গাড়ি বিক্রি মাথা তুলেছে ১৭.৬%। বাড়ছে স্বল্পমেয়াদি ভোগ্যপণ্যের চাহিদা। বিক্রি বাড়ায় হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের লাভ ১৩৬% উঠে পৌঁছেছে ৭০৭৫ কোটি টাকায়। বিক্রি বাড়ছে আইটিসি, ইমামি, ম্যারিকো, গোদরেজ কনজ়িউমার ইত্যাদি ভোগ্যপণ্য সংস্থার। আবার আয়কর কমানো সত্ত্বেও, চলতি অর্থবর্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদায় ৯.৪% বেড়ে হয়েছে ১৯.৪৩ লক্ষ কোটি। জিএসটি কমলেও, গত মাসে এ বাবদ সংগ্রহ ৬.২% বেড়ে হয়েছে ১.৯৩ লক্ষ কোটি টাকা।

এ দিকে, ২০২৪ সালকে ভিত্তিবর্ষ ধরে পণ্য-পরিষেবার তালিকাকে পুনর্বিন্যাস করে জানুয়ারি থেকে চালু হল নতুন খুচরো মূল্যবৃদ্ধি সূচক। গত মাসে এই হার দাঁড়িয়েছে ২.৭৫%। যা রয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যের (৪%-৬%) মধ্যে। গত বছর আরবিআই মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়ে নামিয়েছে ৫.২৫ শতাংশে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকলে, তা আরওকমতে পারে।

অস্থির বাজারে চাহিদা বাড়ায় লগ্নির নিরিখে জানুয়ারিতে এই প্রথম একুইটি ফান্ডকে পিছনে ফেলেছে গোল্ড ইটিএফ। চাহিদা বাড়ছে সিলভার ইটিএফ-এরও। এই দুই প্রকল্পে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১.৮৪ লক্ষ কোটি এবং ১.১৭ লক্ষ কোটি টাকা।

তৃতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশ শেষ হয়েছে গত শনিবার। ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ়ের মুনাফা ১০০ কোটি বেড়ে পৌঁছেছে ৬৮২ কোটি টাকায়। বাটা, মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা ও টাইটানের ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক যথাক্রমে ১২.৬১%, ৩৮.৫৪% ও ৬০.৮৪%। অন্য দিকে এলজি-র মুনাফা কমেছে ৬১.৫৮%। কোল ইন্ডিয়ারও ১৫.৮% কমে হয়েছে ৭১৬৬ কোটি টাকা।

(মতামত ব্যক্তিগত)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন