—প্রতীকী চিত্র।
মাত্র পাঁচ বছরে ১৬ গুণ রিটার্ন! ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও মূল্যের থেকে শেয়ারের দর বেড়েছে ২৬ গুণ। এক কথায় বাজার অস্থির হলেও দুরন্ত গতিতে ছুটছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’-এর (জিআরএসইএল) মাল্টিব্যাগার স্টক। এতে বিনিয়োগে আগামী দিনেও কি বড় অঙ্কের মুনাফা করবেন লগ্নিকারীরা? না কি বড় রকমের দর সংশোধনের আছে আশঙ্কা? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
দেশের তাবড় ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দাবি, গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্সের মাল্টিব্যাগার স্টকের দর সংশোধন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে শেয়ারটির দাম। তবে দীর্ঘমেয়াদি লগ্নিতে এর থেকে ভাল রিটার্ন পাবেন বিনিয়োগকারী। চলতি অর্থবর্ষ (পড়ুন ২০২৬-’২৭) থেকেই সেই ঝলক দেখা যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
২০১৮ সালের অক্টোবরে শেয়ারবাজারে পা রাখে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স। ওই সময় প্রতিরক্ষা সংস্থাটির প্রতি স্টকের দাম ছিল ১১৮ টাকা। ফলে শুরুতেই বাজার থেকে ৩৪৪ কোটি টাকা তুলতে সক্ষম হয় তারা। ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের ১৫ মে পর্যন্ত আইপিও মূল্যের তুলনায় ২,২৭৫ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে জিআরএসইএল।
সোমবার, ১৮ মে বাজার বন্ধ হলে দেখা যায় ২,৫৯০ টাকায় পৌঁছে দৌড় থামিয়েছে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্সের স্টক। এই দিন সংশ্লিষ্ট শেয়ারটির দাম পড়েছে প্রায় ৯৬ টাকা। শেষ পাঁচ বছরে ১,২৯৮.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এর সূচক। তালিকাভুক্তির পর সর্বনিম্ন ১০১ টাকায় জিআরএসইএলের স্টকে নামতে দেখা গিয়েছে।
এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্সের বার্ষিক নিট মুনাফার পরিমাণ ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০৩ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছোয়। পাশাপাশি, এই সময়সীমার মধ্যে বার্ষিক ২৯ শতাংশ হারে বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির পরিচালন আয়, টাকার অঙ্কে যা ১,৬৪২ কোটি। জানুয়ারি-মার্চের ফলাফল প্রকাশের পর স্টকপ্রতি ৬.৭ টাকা করে চূড়ান্ত লভ্যাংশ দিয়েছে জিআরএসইএল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণে থাকা গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্সের ভারতীয় নৌবাহিনীর রণতরী নির্মাণে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। পাশাপাশি, বাণিজ্যিক জাহাজ, ডেকের যন্ত্রাংশ, মেরিন ডিজ়েল ইঞ্জিন এবং যুদ্ধজাহাজের কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার তৈরি করে থাকে তারা। বর্তমানে রণতরীতে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করছে জিআরএসইএল। এর জেরে ২০২৬-’২৭ আর্থিক বছরে তাদের ‘অর্ডার বুক’ ভর্তি থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)