স্বচ্ছ মানেই কি সবার জন্য স্বাস্থ্যকর গ্লাস নুড্লস? ছবি: সংগৃহীত।
নুড্লস বা চাউমিন বললে চোখের সামনে যে দৃশ্য ভেসে ওঠে, তার সঙ্গে এর মিল নেই। অথচ এটিও দস্তুরমতো নুড্ল। তেমনই মোটা সুতোর মতো গড়ন, তেমনই পেঁচিয়ে পড়ে থাকা ভাব। শুধু রংটি জলের মতো স্বচ্ছ। এপার-ওপার দেখতে পাওয়া যাবে এমন। কাচ যেমন হয়, তেমনটি। সে জন্যই নাম গ্লাস নুড্লস। যা ইদানীং স্বাস্থ্য সচেতনদের অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ময়দার তৈরি নুড্লসের বিকল্প হিসাবে। তার কারণ এই স্বচ্ছ নুড্লস সম্পূর্ণ গ্লুটেনমুক্ত।
প্রশ্ন হল, শুধু তাতেই কি নুড্লসটি স্বাস্থ্যকর হওয়ার শংসাপত্র পেয়ে যাবে? পুষ্টিবিদ অলিভিয়া অ্যাড্রিয়ান্স বলছেন, এই নুড্লসও যথেচ্ছ খাওয়া যায় না। অনেকের ক্ষেত্রে এটি অনুপযুক্তও হতে পারে।
স্বাস্থ্যগুণ কতখানি?
স্বচ্ছ দেখতে এই নুড্লস মূলত সবুজ মুগ ডাল, আলু বা রাঙা আলুর স্টার্চ থেকে তৈরি। তা-ই সম্পূর্ণ গ্লুটেন মুক্ত। তবে এতে ফাইবার, প্রোটিন বা ভিটামিন প্রায় নেই বললেই চলে। নেই খনিজ উপাদানও। এই নুড্লসের পুরোটাই প্রায় স্টার্চ বা শ্বেতসার।
কারা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন?
যাঁরা ‘সিলিয়াক ডিজিজ’ জাতীয় পেটের অসুখে ভুগছেন কিংবা যাঁদের গ্লুটেন অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের জন্য গ্লাস নুড্লস একটি নিরাপদ আর স্বাদু বিকল্প হতে পারে। সাধারণ নুড্লসের তুলনায় এতে ফ্যাটের পরিমাণ থাকে অনেকটাই কম। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার ডায়েটে মাঝেমধ্যে স্বাদ বদল করতে এটি রাখা যেতে পারে।
কারা খাবেন বুঝে-শুনে?
গ্লুটেন মুক্ত মানেই তা সবার জন্য অবাধ, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। ডায়াবেটিক রোগীরা এই নুড্লস খাওয়ার আগে সতর্ক হবেন অবশ্যই। কারণ, গ্লাস নুড্লসে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি এবং এর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ একটু উঁচুর দিকেই। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে এই নুড্লস। ডায়াবেটিক রোগীদের এটি খেলে মেপে খাওয়া উচিত। এবং সঙ্গে অবশ্যই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং ফাইবার সমৃদ্ধ সব্জি বেশি রাখা উচিত।