ডিসেম্বরে পরিকাঠামো বৃদ্ধি ঢিমে

জানুয়ারিতে কল-কারখানায় গতি ফেরার ইঙ্গিত সমীক্ষায়

গত ডিসেম্বরে কল-কারখানায় উৎপাদন সরাসরি কমে যাওয়ার ছবি ফুটে উঠেছিল বেসরকারি সমীক্ষায়। এ বার সরকারি পরিসংখ্যানও দেখাল, ওই মাসে ঝিমিয়ে পড়েছিল পরিকাঠামো ক্ষেত্র। সেই হতাশা কাটিয়ে নতুন বছরের প্রথম মাসে অবশ্য গা ঝাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে উৎপাদন শিল্প।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৪৮
Share:

গত ডিসেম্বরে কল-কারখানায় উৎপাদন সরাসরি কমে যাওয়ার ছবি ফুটে উঠেছিল বেসরকারি সমীক্ষায়। এ বার সরকারি পরিসংখ্যানও দেখাল, ওই মাসে ঝিমিয়ে পড়েছিল পরিকাঠামো ক্ষেত্র। সেই হতাশা কাটিয়ে নতুন বছরের প্রথম মাসে অবশ্য গা ঝাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে উৎপাদন শিল্প। যে-সংস্থা ডিসেম্বরের সমীক্ষায় ওই শিল্প মুষড়ে পড়ার কথা বলেছিল, তারাই ইঙ্গিত দিয়েছে জানুয়ারিতে কল-কারখানায় প্রাণ ফেরার। চার মাসের মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধিরও।

Advertisement

ভারতে উৎপাদন শিল্পের হাল কেমন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমীক্ষা করে সে বিষয়ে পূর্বাভাস দেয় নিক্কেই-এর ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স (পিএমআই) সূচক। উপদেষ্টা সংস্থা মার্কিটের করা ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, গত বছরের শেষ মাসে ওই সূচক নেমে গিয়েছিল ৪৯.১-এ। আঠাশ মাসের মধ্যে সব থেকে নীচে। কিন্তু জানুয়ারিতে তা ফের উঠে এসেছে ৫১.১-এ। গত চার মাসে সবচেয়ে বেশি।

ওই সূচক ৫০-এর উপরে থাকার মানে কল-কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি। আর তা তার নীচে নেমে যাওয়ার (যেমনটা ডিসেম্বরে ঘটেছে) অর্থ, উৎপাদন শিল্পে সঙ্কোচন। সুতরাং ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সঙ্কোচনের কব্জা থেকে বেরিয়ে এসে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে উৎপাদন শিল্পে।

Advertisement

ডিসেম্বরে পরিকাঠামোয় বৃদ্ধির হার সোমবার প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। গত বছরের শেষ মাসে ওই ক্ষেত্রে বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ০.৯%। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের (৩.২%) তুলনায় অনেকটা কম। অর্থবর্ষের প্রথম ন’মাসেও (এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর) পরিকাঠামোয় বৃদ্ধি (১.৯%) ঢিমে হয়েছে আগের আর্থিক বছরের একই সময়ের (৫.৭%) তুলনায়।

পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, গত বছরের শেষ মাসে পরিকাঠামোয় ভাটা পড়ার মূল কারণ অশোধিত তেল (৪.১%) ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (৬.১%) উৎপাদন কমে যাওয়া। বিশ্ব বাজারে তলানিতে ঠেকা দামের জেরে যা কিছুটা প্রত্যাশিত। দুনিয়া জুড়ে চাহিদায় মন্দার কারণে কমেছে ইস্পাতের উৎপাদনও (৪.৪%)।

Advertisement

কয়লা, অশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, শোধিত পেট্রোপণ্য, সার, ইস্পাত, সিমেন্ট এবং বিদ্যুৎ— এই আট শিল্প রয়েছে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের মধ্যে। দেশের শিল্প সূচকেও তার গুরুত্ব অনেকখানি (প্রায় ৩৮%)। ফলে তা ঝিমিয়ে পড়ার প্রভাব ডিসেম্বরের সরকারি শিল্প সূচকে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তেমন ইঙ্গিত আগে দিয়ে রেখেছে পিএমআই সূচকও।

নিক্কেই-মার্কিটের সমীক্ষা অনুযায়ী অবশ্য নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছে উৎপাদন শিল্প। নতুন দৌড়ের লক্ষণ চোখে পড়ছে কল-কারখানার হিসেব-খাতার আরও কিছু ক্ষেত্রে। যেমন, বেড়েছে রফতানির বরাত। তার সূচক ৫১.৫ থেকে বেড়ে পৌঁছেছে ৫২.৫-এ। পাঁচ মাসে সর্বোচ্চ। একই ধরনের প্রবণতা চোখে পড়েছে দেশের বাজারেও।

মার্কিটের অর্থনীতিবিদ পলিআন্না দ্য লিমা বলেন, ‘‘নতুন বছরের প্রথম মাসে চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক— দুই বাজার থেকেই বেড়েছে নতুন ব্যবসার বরাত। জোগান বাড়াতে উৎপাদন বৃদ্ধির পথে হেঁটেছে কল-কারখানাগুলি।’’ সার্বিক ভাবেও ডিসেম্বরের হতাশা কাটিয়ে ভারতীয় অর্থনীতির উজ্জ্বল ছবি জানুয়ারির সমীক্ষায় ধরা পড়েছে বলে তাঁর দাবি।

ডিসেম্বরে উৎপাদন শিল্পের বেহাল দশা তুলে ধরার দিনে লিমা বলেছিলেন, ভারতের বাজারে চাহিদা এখনও সে ভাবে মুখ তোলেনি। তার উপর নভেম্বরের শেষ এবং ডিসেম্বরে চেন্নাই-সহ দক্ষিণ ভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার জেরে মার খেয়েছে বিভিন্ন সংস্থার উৎপাদন। মূলত তার প্রতিফলনই দেখা গিয়েছে ডিসেম্বরের পিএমআই সূচকে। তার আগে পরিকাঠামোর ঘর থেকেও ভাল খবর পায়নি অর্থনীতি। নভেম্বরে পরিকাঠামোয় উৎপাদন সরাসরি কমেছিল ১.৩%।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমত বন্যা বা অতিবৃষ্টির ওই সমস্যা জানুয়ারিতে আর হয়নি। আর দ্বিতীয়ত, ডিসেম্বরে পরিকাঠামোয় বৃদ্ধি ঢিমেতালে হলেও, তা অন্তত নভেম্বরের মতো সঙ্কুচিত হয়নি। তাঁদের মতে, এই দু’য়ের প্রভাব জানুয়ারিতে স্পষ্ট।

পরিকাঠামোর সঙ্গে শিল্প সূচকের সরাসরি যোগ রয়েছে। কারণ, পরিকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত শিল্পগুলি সার্বিক শিল্প-সূচকেরও অঙ্গ। তার উপর পরিকাঠামোয় লগ্নি এবং তার হাত ধরে উৎপাদন বাড়লে সাধারণত দীর্ঘ মেয়াদে তার ফসল কুড়োয় শিল্প। তাই ডিসেম্বরে সামান্য হলেও পরিকাঠামো শোধরানোর আঁচ জানুয়ারির পিএমআই সূচকে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। অনেকে মনে করছেন, নিক্কেই-মার্কিটের এই সমীক্ষার ইঙ্গিত কিছুটা স্বস্তি দেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে। মঙ্গলবারই ঋণনীতি পর্যালোচনায় বসছে তারা।

সব চ্যালেঞ্জ সামলে শিল্প সত্যিই ঘুরে দাঁড়ায় কি না, তা দেখতে এখন ডিসেম্বর ও জানুয়ারির সরকারি শিল্প সূচকের দিকে নজর থাকবে সকলের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement