ক্ষতিপূরণের দাবি খতিয়ে দেখতে দক্ষ পেশাদারের অভাবে সাধারণ বিমার টাকা মেটাতে দেরি হচ্ছে। বিশেষ করে এই সমস্যা বেশি ছোট শহরে। বুধবার কলকাতায় এমসিসি চেম্বারের সভায় এ কথা জানান ন্যাশনাল ইনশিওরেন্স-এর সিএমডি সনৎ কুমার।
সভায় এবং পরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির সিএমডি-র বক্তব্য, বিমার দাবি খতিয়ে দেখার জন্য যে-সার্ভেয়র প্রয়োজন, বাজারে তাঁদের জোগানে ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মেট্রো শহরে এই সমস্যা না-থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতে সার্ভেয়রদের ঘাটতি রয়েছে। কোনও একটি দাবি খতিয়ে দেখতে বাইরে থেকে তাঁদের আনতে সময় লাগছে।’’ ফলে অনেক সময়েই বিমার টাকা মেটাতে দেরি হওয়ার কথা মানছেন তিনি।
যদিও তাঁর দাবি, মূল্যায়নের কাজ শেষ হলে দাবি অনুমোদনের পরে যাতে বিমাকারী দ্রুত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পান, সে ব্যাপারে উদ্যোগী তাঁরা। পাশাপাশি, আগামী দিনে এই ঘাটতির কারণেই সাধারণ বিমা ক্ষেত্রে সার্ভেয়র, আইন বিশেষজ্ঞ-সহ অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
অন্য দিকে, শেয়ার বাজারে সংস্থার নথিভুক্তির ব্যাপারে তাঁরা কেন্দ্রের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সনৎ কুমার। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার শেয়ার বাজারে নথিভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সনৎ কুমার বলেন, ‘‘সংস্থার মূল্যায়ন করতে হবে। তবে তার আগে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা হবে। হয়তো সংসদের বাজেট অধিবেশনের পরে কেন্দ্র কোনও নির্দেশ দিতে পারে।’’ তবে সংস্থাটির কী পরিমাণ শেয়ার নথিভুক্ত হতে পারে, সে প্রশ্নের জবাবে এখনই স্পষ্ট করে কিছু জানাতে চাননি তিনি। তাঁর দাবি, সবটাই আলোচনাসাপেক্ষ।
গত অর্থবর্ষে সংস্থাটি প্রিমিয়াম বাবদ ১১,২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। আশা, এ বার তা ১২ হাজার কোটির কাছে পৌঁছবে। তবে তিনি জানান, বিমা শিল্পে ব্যবসার সার্বিক বৃদ্ধির হার ১২% হলেও সংস্থাটির ক্ষেত্রে এই হার তার চেয়ে কিছুটা কম।