—প্রতীকী ছবি।
ওএনজিসি-র (অয়েল অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস কর্পোরেশন) শেয়ারে লক্ষ্মীলাভ! রক্তাক্ত বাজারেও ঊর্ধ্বমুখে ছুটছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্টকের সূচক। মঙ্গলবার, ১২ মে সকালে লেনদেন শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এর দর। দিনভর তা বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। সে ক্ষেত্রে লগ্নিকারীদের যথেষ্ট মুনাফার সম্ভাবনা যে উজ্জ্বল, তা বলাই বাহুল্য।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়ে বিশ্ব। এর আঁচ এসে লেগেছে ভারতের গায়েও। এই পরিস্থিতিতে খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধানে জোর দিতে একাধিক পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। এর মধ্যে অন্যতম হল অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদনে রয়্যালটি হ্রাস। ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দাবি, সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ছুটতে শুরু করে ওএনজিসির স্টক।
কেন্দ্রের রয়্যালটি হ্রাসের সিদ্ধান্তের জেরে ওএনজিসির পাশাপাশি বাড়ে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের শেয়ারের দর। মঙ্গলবার, ১২ মে বেলা ১২টা নাগাদ প্রায় নয় শতাংশ বৃদ্ধি পায় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির স্টকের সূচক। ফলে ৪৯৬.২ টাকায় উঠে আসে এর দাম। একই সময়ে ওএনজিসির শেয়ারকে ২৯৭.৫ টাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে।
স্থলভাগে অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের উপর রয়্যালটির হার ১৬.৬৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। একই ভাবে সামুদ্রিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৯.০৯ শতাংশ থেকে রয়্যালটি কমে দাঁড়িয়েছে আট শতাংশ। প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে এই হার ১০ থেকে আট শতাংশে নেমে এসেছে।
ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্তের জেরে আগামী দিনে আরও বাড়বে ওএনজিসির শেয়ারের দাম। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির স্টক দর ৪০৫ টাকায় পৌঁছোতে পারে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পাশাপাশি, অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সূচক বৃদ্ধি পেতে পারে ১০ থেকে ১১ শতাংশ।
গত এক মাসে ওএনজিসির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩.০৩ শতাংশ। ছ’মাসের হিসাবে যেটা প্রায় ১৭ শতাংশ। বছর থেকে তারিখে ২৪.৫৭ শতাংশ মুনাফা করেছেন এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির লগ্নিকারীরা। অন্য দিকে গত এক মাসে ২.৯৯ শতাংশ বেড়েছে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের স্টকের দাম। আর শেষ ছ’মাসে ১১.৪০ শতাংশ লাভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)